অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অনলাইন আবেদন শুরু হতেই সার্ভার ডাউন! কীভাবে করবেন আবেদন, জেনে নিন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : রাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন সাধারণ মানুষ। অবশেষে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও প্রথম দিনেই বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে আবেদনকারীদের। আবেদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পোর্টালে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ের কারণে সার্ভার ডাউন হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ভাতা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) লিঙ্ক করা। বহু মানুষ একসঙ্গে ডিবিটি লিঙ্ক করার চেষ্টা করায় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এবার অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হতেই একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু অনেক আবেদনকারী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে ‘We Will Be Back Soon’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। ফলে আবেদন জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ।
কেন ডাউন হয়ে গেল পোর্টাল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা করায় সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রকল্প হওয়ায় এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আবেদন করতে শুরু করেন। এর ফলেই সাময়িকভাবে পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর।
কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীদের রাজ্য সরকারের নির্ধারিত সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন হলেও কিছু নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
আবেদনের ধাপগুলি হল—
১. নির্দিষ্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে প্রবেশ করুন।
২. পোর্টালে গিয়ে নিজের পছন্দের ভাষায় আবেদনপত্র ডাউনলোড করুন।
৩. মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
৪. আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৫. পূরণ করা ফর্ম স্ক্যান করে নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করুন।
৬. প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্ক্যান করে আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।
৭. সমস্ত তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন।
আবেদন জমা দেওয়ার পরে একটি রেফারেন্স নম্বর পাওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে আবেদনের স্ট্যাটাস জানার জন্য কাজে লাগবে।
আবেদন করার জন্য কী কী নথি লাগবে?
অনলাইন আবেদন সম্পূর্ণ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। নথিগুলি পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করা থাকা উচিত, যাতে যাচাইয়ের সময় কোনও সমস্যা না হয়।
প্রয়োজনীয় নথির তালিকা—
- আধার কার্ড
- আধার নম্বর
- ভোটার পরিচয়পত্র
- রেশন কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবই
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- বিদ্যুতের বিল অথবা জলের বিল (বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে)
নথিগুলির তথ্য আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ভাতা কবে পাওয়া যাবে?
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করা হবে বলে আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংযুক্ত থাকা জরুরি।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- পোর্টাল ডাউন থাকলে বারবার রিফ্রেশ না করে কিছুক্ষণ পরে চেষ্টা করুন।
- আবেদন করার আগে সমস্ত নথি স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন।
- মোবাইল নম্বর সচল আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেবেন না।
- কোনও অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা ব্যক্তির মাধ্যমে আবেদন করবেন না।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। তবে সার্ভার সমস্যার কারণে অনেকেই প্রথম দিন আবেদন করতে পারেননি। প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন