অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে ভুয়ো লিঙ্কের ছড়াছড়ি অনলাইনে তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক করল রাজ্য সরকার

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল আলোচিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশায় আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এই আগ্রহের সুযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট ও আবেদন লিঙ্ক, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য এখনও সরকারি অনলাইন পোর্টাল সম্পূর্ণরূপে চালু হয়নি। ফলে বর্তমানে কোনও বেসরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে না। এমনকি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও অপব্যবহারের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভুয়ো লিঙ্কে বাড়ছে প্রতারণার আশঙ্কা

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর নামে একাধিক ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ভাইরাল হতে দেখা যাচ্ছে। কিছু ওয়েবসাইট দাবি করছে যে তারা সরকারি আবেদন গ্রহণ করছে এবং আবেদন জমা দিলেই দ্রুত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এখনও সরকারিভাবে অনলাইন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে কোনও অজানা ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভুয়ো ওয়েবসাইটের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা। পরবর্তীতে সেই তথ্য ব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি, ব্যাঙ্ক প্রতারণা বা পরিচয় চুরির মতো অপরাধ ঘটতে পারে।

কবে শুরু হবে অনলাইন আবেদন?

রাজ্য সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জুন মাস থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পোর্টাল চালু হয়নি। প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

সরকারি মহলের অনুমান, খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল পোর্টাল চালু করা হবে এবং আবেদনকারীরা তখন সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। পোর্টাল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

আবেদনকারীদের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন করতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার—

- শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণার উপর নির্ভর করুন।

- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউবে পাওয়া অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।

- কোনও ওয়েবসাইটে আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা OTP শেয়ার করবেন না।

- সরকারি পোর্টাল চালু হওয়ার আগে অনলাইনে আবেদন করার চেষ্টা করবেন না।

- সন্দেহজনক ওয়েবসাইট দেখলে নিকটবর্তী প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে জানান।

কীভাবে হবে আবেদন যাচাই?

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা পড়ার পর তা একাধিক স্তরে যাচাই করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় বিডিও অফিস আবেদনকারীদের নথি পরীক্ষা করবে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে এসডিও অফিস আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রাথমিক যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীদের নাম জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। জেলাশাসক চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্বে থাকবেন। কলকাতা পুর এলাকার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালন করবে কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ।

কেন এত জনপ্রিয় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হল মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতী এবং নিম্ন আয়ের পরিবার এই প্রকল্পের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন যাতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে দ্রুত আবেদন করা যায়।

সরকারের বার্তা

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি পোর্টাল চালু না হওয়া পর্যন্ত কোনও অনলাইন আবেদন বৈধ নয়। তাই সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার এবং শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর ভরসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরাপদভাবে পরিচালিত হবে। সেই কারণে তড়িঘড়ি করে কোনও ভুয়ো ওয়েবসাইটে তথ্য জমা না দেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ যতই বাড়ুক না কেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পোর্টাল চালু হলে সরকারিভাবেই বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত ভুয়ো লিঙ্ক ও প্রতারণার ফাঁদ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ