দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত, তবু কেন বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? কী বলছে তেল সংস্থা?
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : শনিবার, ২৩ মে দেশজুড়ে ফের বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। নতুন দামের ফলে সাধারণ মানুষের উপর আরও চাপ বেড়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯১ পয়সা। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি তৃতীয়বার, যখন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হল। একের পর এক দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বেগে পড়েছেন।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বহু পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনে আরও দাম বাড়তে পারে। সেই কারণে গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, যানজট পর্যন্ত তৈরি হয়েছে পাম্পের সামনে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই নিয়ে মুখ খুলেছে দেশের অন্যতম বড় তেল সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। কিছু জায়গায় যে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে, তা সাময়িক। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার দাবি, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল কাটার মরসুম চলছে। এই সময় কৃষিকাজে ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও অন্যান্য যন্ত্রে ডিজেলের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অনেক বেসরকারি পাম্পে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় গ্রাহকদের একটি বড় অংশ সরকারি পাম্পগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
এছাড়াও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহণ সংস্থাগুলিও এখন সরকারি তেল পাম্প থেকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি কিনছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে পাইকারি সরবরাহের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। ফলে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ করেই জ্বালানির চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।
তেল সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, চলতি মাসের ১ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পেট্রোল বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ডিজেল বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এত বড় পরিমাণ চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের অধিকাংশ পাম্পে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে সংস্থার ৪২ হাজারেরও বেশি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে দেশের বাজারে জ্বালানির দামে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচও বেড়ে যায়, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইতিমধ্যেই বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের অভিযোগ, একের পর এক দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য মোটরবাইক বা গাড়ির উপর নির্ভর করেন, তাঁদের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল না হয়, তাহলে আগামী দিনেও জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্র ও তেল সংস্থাগুলি।
তবে তেল সংস্থার তরফে আবারও সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, জ্বালানির কোনও অভাব নেই। অযথা আতঙ্কিত হয়ে ভিড় না বাড়ানোর আবেদনও জানানো হয়েছে। সংস্থার মতে, পর্যাপ্ত মজুত এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় থাকায় সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন