দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে গরমের দাপট, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা! কবে মিলবে স্বস্তি?
![]() |
| আজকের অভাওয়ার খবর |
রাজ্যে আবারও বদলাচ্ছে আবহাওয়ার চিত্র। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার সঙ্গেই লড়াই করতে হবে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বাংলার দিকে প্রবেশ করছে। এর জেরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার এই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে গত ৩৬-৪৮ ঘণ্টায় উত্তর প্রদেশের অনেক অংশে অবিরাম বৃষ্টি, বজ্রপাত ও তীব্র ঝড় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ১৩-১৪ মে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত বৃষ্টির তেমন কোনও বড় সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে আগামী কয়েকদিন মূলত গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
তবে এক বা দুই জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও গরমের তীব্রতা কমবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের সময় বাইরে বেরোলে তীব্র গরমে নাজেহাল হতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বড় ধরনের স্বস্তির বৃষ্টি এখনই মিলবে না। বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ায় অস্বস্তিকর গুমোট গরম আরও বেড়ে যেতে পারে।
কলকাতা শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। ফলে দিনের বেলায় রাস্তায় বের হওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে উঠবে। চিকিৎসকেরাও এই সময়ে পর্যাপ্ত জল পান এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের বাড়তি সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণেরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কিছু অংশে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নদী ও জলাশয়ের জলস্তর বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। ফলে গাছ পড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই দুই রূপে কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে গোটা বাংলা। দক্ষিণে যেখানে তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা, সেখানে উত্তরে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে তৈরি হয়েছে ভিন্ন পরিস্থিতি। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও বর্ষা আসতে কিছুটা সময় বাকি রয়েছে। তার আগে এমন ওঠানামা চলতেই পারে।
চাষিদের জন্যও এই আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের বৃষ্টিতে চা বাগান এবং চাষের জমিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও দক্ষিণবঙ্গের অতিরিক্ত গরম কৃষিকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রা যদি আরও বাড়ে, তাহলে গ্রীষ্মকালীন ফসলের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আবহাওয়া থাকবে যথেষ্ট অস্থির। দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তি, আর উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির জন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন