মমতা সরকার ফেলতেই কি সক্রিয় ছিলেন অভিষেক? ভরাডুবির পর দলেই কোণঠাসা!

 


পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবির পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া মুখপাত্র রিজু দত্ত দাবি করেছেন, আরজি কর কাণ্ডের পর আন্দোলনের সময় অভিষেক নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।

তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, তৃণমূলে এখন অভিষেক ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে পুরনো নেতৃত্বের উপরই বেশি ভরসা করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে অভিষেকের ঘনিষ্ঠদের জায়গা হয়নি বলেই দাবি উঠছে।

অভিষেক ঘনিষ্ঠদের উপেক্ষা?

তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। পাশাপাশি অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে করা হয়েছে মুখ্য সচেতক। এই নতুন নেতৃত্ব তালিকায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোনও নেতার নাম নেই।

সবচেয়ে তাৎপর্যের বিষয়, দলের এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দায়িত্ব পাওয়া চার নেতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন। ২০২১ সালের বিপুল জয়ের পর তৃণমূল তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নেয় এবং সেই সময় থেকেই অভিষেকের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর দলের অন্দরে তাঁর দাপট আরও বেড়েছিল বলেই আলোচনা ছিল।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৭৪ জন বর্তমান বিধায়কের টিকিট কেটে নতুন মুখে ভরসা করেছিল। দলীয় সূত্রে দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা ছিল। এর জেরে বহু এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও শুরু হয়। তৃণমূলের অন্দরেই এখন আলোচনা, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং একাধিক ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই দলের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফল প্রকাশের পর কী বলেছিলেন অভিষেক?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নিজের বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক পদে থাকা একাধিক ব্যক্তি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন-সহ একাধিক সরকারি সংস্থা পুরো ভোটপর্বে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভোট গণনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। ইভিএমের সংরক্ষণ ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অসঙ্গতির কথাও বলেন। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রের নজরদারি চিত্র প্রকাশ এবং ভোট যাচাইয়ের কাগজের স্বচ্ছ গণনার দাবিও জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ