বিজেপি জিততেই সুর বদল! ৫ নেতাকে শোকজ তৃণমূলের, প্রশ্ন— "কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?"
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় মিলতেই সুর বদলানো নিজেদের পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই নেতারা প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। কেন এমন মন্তব্য করা হয়েছে এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিস পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের মুখপাত্র রিজু দত্ত ও কোহিনূর মজুমদার। এছাড়াও রয়েছেন ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, মালদার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক এবং দার্জিলিংয়ের প্রাক্তন জেলা সভাপতি পাপিয়া ঘোষ।
দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেতাদের মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংগঠনের কাজেও প্রভাব পড়ছে। তাই তাঁদের বক্তব্যকে প্রাথমিকভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় সরব হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ায় অভিষেককে ঘিরে এই সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত পরামর্শদাতা সংস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন একাধিক নেতা। তাঁদের অভিযোগ, প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ওই সংস্থার অতিরিক্ত প্রভাবই দলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ। কিছু নেতা আবার প্রকাশ্যে বিজেপির প্রশংসাও করেছেন।
পাপিয়া ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব দেবেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধুমাত্র নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, দলকে আক্রমণ করেননি। তাঁর কথায়, ওই সংস্থার কারণে আগেও বহু সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে দলকে।
অন্যদিকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, তিনি যা বলেছেন তা সত্যি বলেই মনে করেন। ইতিমধ্যেই তাঁর নেতৃত্বাধীন ইংলিশবাজার পুরসভায় শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক অমলান ভাদুড়িকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
এদিকে এখনও অনেক নেতা প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। বহরমপুরে বিজেপির কাছে পরাজিত তৃণমূল নেতা নরুগোপাল মুখার্জির দাবি, দলের মধ্যে তোলাবাজির সংস্কৃতিই এই হারের অন্যতম বড় কারণ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন