হাইলাইটস:
•ভোটগণনার আগে পর্যবেক্ষক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধাক্কা সর্বোচ্চ আদালতে
•আদালতের স্পষ্ট মত, পর্যবেক্ষক নিয়োগে নির্বাচন কমিশনেরই পূর্ণ অধিকার
•কপিল সিব্বলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরা হলেও তা মানেনি আদালত
কলকাতা, ০২ মে ২০২৬, ১৩:২৭:০২ : পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনার আগে গণনা পর্যবেক্ষক নিয়ে বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোন আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার নির্বাচন কমিশনেরই।
এই মামলায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি পেশ করে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জন্য বিজ্ঞপ্তি ১৩ এপ্রিল জারি হলেও তা তাঁদের কাছে পৌঁছায় ২৯ এপ্রিল।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি বুথে অনিয়মের আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে—এই আশঙ্কার ভিত্তি কী, তা পরিষ্কার নয়। তৃতীয়ত, প্রতিটি বৈঠকেই আগে থেকেই কেন্দ্রীয় এক আধিকারিক সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন, সেখানে নতুন করে আরেকজন কেন্দ্রীয় আধিকারিকের প্রয়োজন কেন? চতুর্থত, নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের একজন আধিকারিক থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে রাজ্যের কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।
সিব্বল আরও প্রশ্ন তোলেন, সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তার পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য থাকা উচিত। প্রতিটি বুথ সম্পর্কে কীভাবে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলির সম্মতির প্রশ্ন এখানে আসে না। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র বা রাজ্য—দুই পক্ষের সরকারি কর্মীদের মধ্য থেকেই নিয়োগ করা যায়, কিন্তু শুধুমাত্র এক পক্ষ থেকে নির্বাচন করা ভুল নয়। আদালতের মতে, সরকারি কর্মচারীরা আলাদা কোনও গোষ্ঠী নয়, তারা সকলেই রাষ্ট্রের কর্মী।
অবশেষে আদালত তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন