নিজের শরীর নিজেই তৈরি করে! তারা মাছের আশ্চর্য ক্ষমতা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও



ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে তারা মাছ বা “সি স্টার” বরাবরই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্র। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ভাইরাল হয়েছে এই প্রাণীটির আশ্চর্য ক্ষমতা—নিজের কাটা বাহু আবার নতুন করে গজিয়ে তোলা। শুধু তাই নয়, কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে একটি বিচ্ছিন্ন বাহু থেকেও তৈরি হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন তারা মাছ। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর পুনর্জন্ম ক্ষমতা রয়েছে এই প্রাণীর মধ্যে।




আসলে তারা মাছ কি মাছ?

নাম শুনে অনেকেই একে মাছ ভাবলেও বাস্তবে তারা মাছ কোনো মাছ নয়। এটি সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং ইকাইনোডার্মাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এদের শরীরে মেরুদণ্ড নেই, এমনকি কোনো মস্তিষ্কও নেই। তবুও তারা পরিবেশ বুঝতে পারে এবং ধীরে ধীরে সমুদ্রের তলদেশে চলাফেরা করে।




বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি প্রজাতির তারা মাছ রয়েছে। বেশিরভাগের পাঁচটি বাহু থাকলেও কিছু প্রজাতির ১০ থেকে ৪০টিরও বেশি বাহু দেখা যায়।




কীভাবে আবার নতুন হাত গজায়?

তারা মাছের শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে সেখানে বিশেষ কোষ সক্রিয় হয়ে নতুন টিস্যু তৈরি করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সেই অংশ পূর্ণাঙ্গ বাহুতে পরিণত হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।



কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে কাটা বাহুর সঙ্গে যদি কেন্দ্রীয় অংশের সামান্য অংশও থাকে, তাহলে সেটি থেকে সম্পূর্ণ নতুন তারা মাছ তৈরি হতে পারে। এই ক্ষমতাকে বিজ্ঞানীরা “রিজেনারেশন” বা পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।




বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কারণ কী?

গবেষকদের মতে, তারা মাছের এই পুনর্জন্ম ক্ষমতা ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কীভাবে একটি প্রাণী নিজের শরীরের জটিল অংশ আবার তৈরি করে, তা নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই গবেষণা মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ বা অঙ্গ পুনর্গঠনের প্রযুক্তি উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে।



সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন ভাইরাল?

সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারা মাছের পুনর্জন্ম সম্পর্কিত ভিডিও ও তথ্য ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে একটি বিচ্ছিন্ন বাহু থেকে নতুন প্রাণী তৈরির বিষয়টি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। Reddit-এ সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান নিয়ে আলোচনায় অনেক ব্যবহারকারী এই ঘটনাকে “প্রকৃতির সুপারপাওয়ার” বলেও মন্তব্য করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “চার হাতওয়ালা তারা মাছ দেখা সত্যিই বিরল।” আরেকজনের দাবি, তিনি অ্যাকোয়ারিয়ামে কাজ করলেও এমন দৃশ্য খুব কম দেখেছেন।



পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

তারা মাছ শুধু আকর্ষণীয় প্রাণীই নয়, সমুদ্রের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা ঝিনুক ও অন্যান্য ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে সমুদ্র দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অনেক এলাকায় তারা মাছের সংখ্যা কমছে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।



উপসংহার

প্রকৃতির অদ্ভুত ক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে তারা মাছ সবসময়ই বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। নিজের শরীর পুনর্গঠন করার মতো বিরল ক্ষমতা শুধু বিজ্ঞানীদের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই প্রাণী আবারও প্রমাণ করে দিল—প্রকৃতির রহস্য এখনও পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ