সোনার বদলে রুপোর দিকে ঝোঁক বাড়তেই বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

 


কেন্দ্র সরকার দেশে রুপোর আমদানি নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ি চালু করেছে। এবার থেকে রুপোর একাধিক শ্রেণিকে ‘মুক্ত আমদানি’ তালিকা থেকে সরিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত আমদানি’ তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো সহজে রুপো দেশে আনা যাবে না। নির্দিষ্ট অনুমতি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছাড়া এই আমদানি সম্ভব হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল দেশের মূল্যবান ধাতুর আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। গত কয়েক মাস ধরে সোনা ও রুপোর আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছিল। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই কারণেই এবার কেন্দ্র আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবান ধাতুর লাগামছাড়া আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ সোনা ও রুপো আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার সোনা এবং রুপোর উপর আমদানি শুল্কও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আগে যেখানে শুল্কের হার তুলনামূলক কম ছিল, সেখানে এখন অনেক বেশি কর দিতে হচ্ছে। এর পরেও সরকারের আশঙ্কা ছিল, সোনার দাম ও কর বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং বিনিয়োগকারীরা রুপোর দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। কারণ সোনার তুলনায় রুপো অপেক্ষাকৃত সস্তা এবং অনেকের কাছে তা বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে গয়নার বাজারে রুপোর চাহিদা গত কিছু সময়ে দ্রুত বেড়েছে। বিয়ের মরশুম, উৎসব এবং উপহার সামগ্রীর ক্ষেত্রেও রুপোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রুপোর আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামলাতেই কেন্দ্র এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সরকারি সূত্রের খবর, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধরনের রুপো আমদানির জন্য এখন বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এর ফলে বাজারে রুপোর সরবরাহ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি সোনা ও রুপোর আমদানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে টাকার মূল্যের উপরও। কারণ বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার এখন কঠোর নীতি গ্রহণ করছে।

এদিকে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই সোনা ও রুপোর আমদানি প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হল উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আগামী কয়েক মাসে রুপোর আমদানি আরও কমে যেতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আমদানি কমে গেলে বাজারে রুপোর দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে গয়না ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। অনেক ব্যবসায়ীর মতে, যদি সরবরাহ কমে যায়, তাহলে বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সরকারের দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সুরক্ষা, বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং টাকার উপর চাপ কমানো বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় আমদানির উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ আমদানি কমলে দেশীয় বাজারে উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহারের উপর জোর বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও কিছুটা কমতে পারে।

সব মিলিয়ে রুপোর আমদানিতে কেন্দ্রের নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি আগামী দিনে বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনীতি কতটা উপকৃত হয় এবং সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাব কতটা পড়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ