বাংলায় গেরুয়া সরকারের সূচনা, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের সূচনা, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় গেরুয়া শিবিরের সরকার গঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশের একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। একই সঙ্গে দলের প্রবীণতম কর্মীকেও সম্মান জানিয়ে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।
ব্রিগেড ময়দানে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকশিল্পী, ছৌ নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কুচবিহার থেকে পুরুলিয়া— বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা গান ও নৃত্যের মাধ্যমে নতুন সরকারকে স্বাগত জানান।
শপথের আগে শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে। আজ সত্যিই বাংলার ইতিহাসে এক নতুন ভোর।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের ঐতিহাসিক জয়ের পর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনে দলটি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে শাসকদল মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। ভবানীপুরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
অনুষ্ঠান ঘিরে কলকাতায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্রিগেড ময়দান ও আশপাশের এলাকায় নজরদারির জন্য উঁচু ভবনে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছিল। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয় উড়ন্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র।
নতুন সরকার গঠনের পর এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্প ও আইনশৃঙ্খলার দিকে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলায় কতটা পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন