স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! বড় নির্দেশ রাজ্য সরকারের

 


পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে সকালবেলার প্রার্থনা সভায় এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, স্কুল শুরু হওয়ার আগে অনুষ্ঠিত প্রার্থনা সভায় প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে এই গানে অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার কথাও জানানো হয়েছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার আগের সমস্ত প্রথা ও নির্দেশ বাতিল করে শিক্ষা দপ্তরের অধীন সমস্ত বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৩ মে শিক্ষা অধিকর্তা সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের প্রধানদের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সকালবেলার প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। যাতে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলের পড়ুয়ারা এই জাতীয় গান গাইতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে কি না, তার পূর্ণ নথি সংরক্ষণ করতে হবে স্কুলগুলিকে। এমনকি ভিডিও রেকর্ডিং রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র সরকারের তরফে জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এ ‘বন্দে মাতরম’ গানে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

এতদিন রাজ্যের স্কুলগুলিতে মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-ই গাওয়া হতো। এছাড়াও তৃণমূল সরকারের আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে চালু করা হয়েছিল। এবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’ যুক্ত হওয়ায় সকালবেলার প্রার্থনা সভায় গানের সংখ্যা আরও বাড়ল।

তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বামপন্থী মনোভাবাপন্ন এক শিক্ষক সংগঠনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিদিন কি তিনটি গানই গাওয়া হবে, নাকি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়। সীমিত সময়ের মধ্যে সব গান কীভাবে গাওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিরহাদের ইস্তফা, অভিষেককে তলব, ঋতব্রতের উত্থান! একদিনে তৃণমূলে তিন বড় ধাক্কা

১ জুন পার, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন ফর্ম নিয়ে ধোঁয়াশা! পোর্টালে নেই নতুন আপডেট

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর