জল খেলেও মিটছে না তেষ্টা? জানুন বড় ৪ ভুল
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : তীব্র গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়। ঘামের সঙ্গে শরীরের অনেক দরকারি খনিজও বেরিয়ে যায়। তাই এই সময় শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ ও সজীব রাখা খুবই জরুরি। অনেকেই মনে করেন বেশি করে জল খেলেই শরীর ঠিক থাকবে। কিন্তু বাস্তবে শুধু জল খেলেই সবসময় শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ হয় না। বরং জল খাওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে বারবার তেষ্টা পায়, মাথা ভার লাগে, দুর্বলতা বাড়ে এবং শরীরে ক্লান্তি জমে যায়।
আয়ুর্বেদের মতে, গ্রীষ্মকালে জল পান করারও কিছু নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম না মানলে প্রচুর জল খেলেও শরীর ঠান্ডা হয় না এবং আরামও পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে মানুষ সাধারণত চারটি বড় ভুল করে থাকে। এই ভুলগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে সহজেই শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।
ফ্রিজের বরফ ঠান্ডা জল সরাসরি পান করা
গরম পড়লেই অনেকেই ফ্রিজ খুলে একেবারে বরফ ঠান্ডা জল খেয়ে ফেলেন। প্রথম মুহূর্তে এই জল গলা ও মুখে আরাম দিলেও শরীরের জন্য এটি খুব একটা উপকারী নয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা জল শরীরের স্বাভাবিক হজম শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে, পেটে অস্বস্তি বাড়তে পারে এবং শরীর ভারী লাগতে পারে।
এছাড়াও খুব ঠান্ডা জলকে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয়। এতে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়। সাধারণ তাপমাত্রার জল বা মাটির ঘড়ার জল শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। এই ধরনের জল শরীরের কোষে দ্রুত পৌঁছে গিয়ে তেষ্টা মেটাতে সাহায্য করে।
শুধু সাধারণ জল পান করা
অনেকেই মনে করেন গরমে শুধু বেশি বেশি জল খেলেই শরীর ভালো থাকবে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘামের সময় শরীর থেকে শুধু জল নয়, লবণ, পটাশিয়াম ও অন্যান্য দরকারি উপাদানও বেরিয়ে যায়। তখন শুধু সাধারণ জল শরীরকে সম্পূর্ণভাবে সজীব রাখতে পারে না।
এই সময় প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের জন্য বেশি উপকারী। যেমন ডাবের জল, ঘোল, লেবুর শরবত, সত্তুর শরবত কিংবা গোলাপের মিষ্টি শরবত শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ক্লান্তিও কমায়।
একবারে অনেকটা জল খেয়ে ফেলা
গরমে তেষ্টা পেলে অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত জল খেলে শরীর সেই জল ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে বারবার প্রস্রাবের মাধ্যমে জল বেরিয়ে যায় এবং শরীর আবার দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে।
একবারে বেশি জল খেলে শরীরে লবণের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অবসাদ দেখা দিতে পারে। তাই সারাদিনে অল্প অল্প করে কয়েকবার জল পান করাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। এতে শরীর ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পায় এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
ঠান্ডা কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত পানীয়ের উপর নির্ভর করা
গরম পড়লেই অনেকের ঠান্ডা কোমল পানীয় খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। বাইরে থেকে এসে অনেকেই বোতলজাত ঠান্ডা পানীয় বা বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় পান করেন। সাময়িকভাবে এগুলো তেষ্টা কমালেও আসলে শরীরের ক্ষতি করে।
এই ধরনের পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি ও নানা রাসায়নিক উপাদান থাকে। শরীর সেই চিনি ভাঙতে গিয়ে আরও বেশি জল ব্যবহার করে। ফলে শরীর উল্টে আরও জলশূন্য হয়ে পড়ে। পাশাপাশি এসব পানীয় হজমের সমস্যাও বাড়ায় এবং শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে।
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কী পান করবেন
তীব্র গরমে শুধু জল নয়, এমন কিছু প্রাকৃতিক পানীয় পান করা দরকার যা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখবে এবং জলের ঘাটতি পূরণ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পানীয়গুলো গরমে খুব উপকারী।
ডাবের জল
ডাবের জল শরীরের জন্য প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। এতে থাকা খনিজ শরীরকে দ্রুত সতেজ করে তোলে এবং জলশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
সত্তুর শরবত
সত্তু শরীর ঠান্ডা রাখে এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। গরমে এটি খুবই উপকারী একটি পানীয়।
ঘোল বা ছাছ
ঘোল হজম শক্তি ভালো রাখে এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সাহায্য করে। দুপুরের খাবারের পরে এক গ্লাস ঘোল শরীরকে আরাম দেয়।
লেবুর শরবত
লেবুর শরবত শরীরকে সতেজ রাখে। এতে সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে খেলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।
গোলাপের শরবত
গোলাপ দিয়ে তৈরি শরবত শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং গরমে অস্বস্তি কমায়।
খসের শরবত
খস দিয়ে তৈরি পানীয় শরীরে শীতল অনুভূতি আনে এবং অতিরিক্ত গরমের কষ্ট কমাতে সাহায্য করে।
মাটির ঘড়ার জল
মাটির ঘড়ায় রাখা জল স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। এটি শরীরের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক।
গরমে সুস্থ থাকতে আরও কিছু জরুরি পরামর্শ
গরমের সময় রোদে বের হলে মাথা ঢেকে বের হওয়া উচিত। খুব বেশি মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। ফলমূল বেশি খেতে হবে এবং শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে দ্রুত জল পান করতে হবে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা উচিত নয়। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুব জরুরি।
তীব্র গরমে শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বারবার তেষ্টা পাওয়া, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি শরীরে জলের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। তাই শুধু বেশি জল খেলেই হবে না, সঠিক নিয়মে জল ও প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করাই গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন