ধর্মীয় স্থানে মাইক-লাউডস্পিকার নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! যোগী মডেলের ছায়া কি বাংলায়?
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মতো কড়া প্রশাসনিক মডেলের ছায়া এবার পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারীর দিক থেকে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ধর্মীয় স্থানে ব্যবহৃত লাউডস্পিকার যেন নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে না যায় এবং অযথা রাস্তা অবরোধ করে কোনো অনুষ্ঠান করা না হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ধর্মীয় স্থান থেকে অতিরিক্ত উচ্চ শব্দে মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হয়, তাহলে জোরজবরদস্তি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শব্দ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান, বড় ধর্মীয় উৎসব যেমন দুর্গাপূজা বা ঈদের মতো সময় ছাড়া সাধারণ দিনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে আশপাশের মানুষকে অসুবিধায় ফেলা যাবে না।
এই অবস্থানকে অনেকেই উত্তরপ্রদেশের কঠোর শব্দ নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। সেখানে আগেই অবৈধ লাউডস্পিকার অপসারণ এবং শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়।
এই বিতর্ক ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একাংশের মতে, এটি জনস্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ, আবার অন্য অংশের দাবি—এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে তারা সরকারের নির্দেশকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং রাস্তা বন্ধ করে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন