জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার হামজা বুরহান নিহত, স্বস্তিতে নিরাপত্তা মহল

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূলচক্রী জঙ্গি হামজা বুরহানকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরাবাদ এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই জঙ্গি নেতা কাশ্মীরে একাধিক নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযোগ।

হামজা বুরহান, যার আসল নাম আরজুমন্দ গুলজার দার, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল বদরের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ছিল। সে মূলত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রাত্নিপোরা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার অজুহাতে পাকিস্তানে গিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। পরে সীমান্তের ওপার থেকে কাশ্মীরের যুবকদের জঙ্গি দলে ভর্তির জন্য প্ররোচিত করা, অর্থ সংগ্রহ করা এবং অনুপ্রবেশ চক্র পরিচালনার মতো কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, হামজা বুরহান দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখে পাকিস্তানে আত্মগোপন করেছিল। বাইরে থেকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিলেও গোপনে সে জঙ্গি সংগঠনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কাশ্মীর উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানো এবং তরুণদের বিপথে চালিত করার পিছনে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ।

পুলওয়ামা হামলার পর সামনে আসে নাম

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ের ওপর ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে ধাক্কা মারতেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় চল্লিশের বেশি জওয়ান শহিদ হন। গোটা দেশ শোকাহত হয়ে পড়েছিল ওই ঘটনার পর।

এই হামলার তদন্তে উঠে আসে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের নাম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, হামজা বুরহান এই হামলার পরিকল্পনা, অর্থ জোগাড় এবং স্থানীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার সঙ্গেও সে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২২ সালে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জঙ্গি ঘোষণা করে। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, সে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় যুবকদের জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল। এছাড়াও উপত্যকায় নাশকতা ছড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।

পাহেলগাম-সহ একাধিক ঘটনায় যোগের অভিযোগ

তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, হামজা বুরহান শুধু পুলওয়ামা হামলার সঙ্গেই জড়িত ছিল না। কাশ্মীর উপত্যকার পাহেলগাম-সহ একাধিক এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার নাম উঠে আসে। সীমান্তের ওপার থেকে নির্দেশ পাঠানো, যোগাযোগ রক্ষা করা এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে সে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে তরুণদের প্রভাবিত করে জঙ্গি সংগঠনের দিকে টেনে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোপন যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

হামজা বুরহানের মৃত্যুকে কাশ্মীরের জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ওপার থেকে সক্রিয় থাকা এই জঙ্গি নেতার মৃত্যুতে জঙ্গি সংগঠনগুলির যোগাযোগ এবং পরিচালন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করছেন, শুধুমাত্র কোনও একজন জঙ্গি নেতার মৃত্যুতে জঙ্গি কার্যকলাপ পুরোপুরি থেমে যাবে না। সীমান্ত এলাকায় এখনও একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ অনেকটাই কমলেও মাঝে মাঝেই বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে একাধিক জঙ্গি নেতা নিহত হলেও সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীরের যুবসমাজকে বিপথে যাওয়া থেকে আটকাতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের দিকেও জোর দিতে হবে। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

হামজা বুরহানের মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা না হলেও, এই ঘটনাকে ঘিরে কাশ্মীর এবং নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে আন্তর্জাতিক স্তরেও আরও কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ