আইডি ছাড়া নেপালে প্রবেশ নয়! ভারতীয়দের জন্য কড়া নিয়ম চালু বালেন সরকারের
নেপালের বালেন সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে এবার ভারতীয়দের জন্য কড়া নিয়ম চালু হয়েছে। এখন থেকে ভারত থেকে নেপালে প্রবেশ করতে গেলে ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে নেপাল থেকে ভারতে ঢুকতেও বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। আধার কার্ড বা সরকারের দেওয়া অন্য বৈধ পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে শনিবার থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে নেপাল প্রশাসন।
নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর শনিবার জোগবনি সীমান্তে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। পরিচয়পত্রের কড়া তল্লাশির কারণে সীমান্তজুড়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কলকাতা থেকে আসা ট্রেন জোগবনি স্টেশনে পৌঁছতেই বহু যাত্রী নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্তে ভিড় করেন। নেপাল পুলিশ পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবেই প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিল। যাদের কাছে বৈধ নথি ছিল না, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
নেপালের প্রধান জেলা প্রশাসক যুবরাজ কাটেল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্ত পারাপারের জন্য পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বেহরাইচ লাগোয়া নেপালের প্রায় ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক মধেশি সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। নেপালের জামুনহা গ্রামে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে খবর। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যাতায়াতকারী মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির নামে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
চীনা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সতর্ক পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী
এদিকে নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে চীনা নাগরিকদের অনুপ্রবেশের ঘটনার পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিহারের বেতিয়া, পূর্ব চম্পারণ, সীতামঢ়ি, দরভাঙা, মধুবনী-সহ উত্তর বিহারের একাধিক জেলার পুলিশকে হোটেল ও লজে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন দিন আগে আরারিয়ার জোগবনি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় এক চীনা নাগরিককে বৈধ নথি ছাড়া আটক করা হয়। এরপরই পুলিশ সদর দফতরের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ৪ মে চীনের হুনান প্রদেশের বাসিন্দা ঝৌ হুয়ান নেপালি নম্বরের স্কুটি নিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সীমান্তের কাছেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা তাকে আটকায়। পরে স্থানীয় পুলিশ তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন