নিট ইউজি পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা! প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কর্তৃপক্ষ, বাড়ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
![]() |
| নিট ইউজি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা |
জাতীয় স্তরের চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে আবারও বড় সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা। বহু বিতর্ক, অভিযোগ এবং তদন্তের পর অবশেষে নতুন করে চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আগামী ২১ জুন, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবার নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করল জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর গোটা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বহু পরীক্ষার্থী দাবি করেন, পরীক্ষার আগেই কিছু অসাধু চক্রের হাতে প্রশ্ন পৌঁছে গিয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বর্তমানে গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। কোনভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা ভাঙল— সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষার দিন নির্ধারণের আগে একাধিক স্তরে আলোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে এবার বাড়তি কড়াকড়ি করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী করা হবে।
সংস্থার তরফে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যেই ভরসা করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা ভুয়ো খবর বিশ্বাস না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যায় পড়লে বা পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য জানতে সরাসরি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রকের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচন এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূত্রের খবর, এবার পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে আরও কঠোর তল্লাশি চালানো হতে পারে। পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র পরিবহণ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যায়। বহু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক প্রস্তুতি এক ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে। কেউ কেউ বলেন, নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত চাপের হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নতুন দিন ঘোষণার পর অনেকেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য আবার নতুনভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় ভালো ফল করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা যায় না। কারণ এই পরীক্ষার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের চিকিৎসক তৈরি হন। তাই পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে প্রযুক্তির আরও আধুনিক ব্যবহার প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।
অনেক অভিভাবক মনে করছেন, শুধুমাত্র পরীক্ষা বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম কমবে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থা একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে এই পরীক্ষার সঙ্গে। তাই নতুন পরীক্ষার দিন ঘোষণা হওয়ার পর এখন সবার নজর নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার দিকে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই আবার নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। শিক্ষকরাও পড়ুয়াদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আগামী ২১ জুনের পরীক্ষা ঘিরে এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। কারণ প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষা নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই এবার কোনওরকম ভুলের সুযোগ রাখতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। কঠোর নিরাপত্তা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন