এখন থেকেই অনলাইনেই নিট পরীক্ষা! বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : মেডিক্যাল পড়ুয়াদের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেছেন, আগামী বছর থেকে নীট স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন কলম ও কাগজে নেওয়া হলেও এবার পরীক্ষার্থীদের কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হবে। সরকারের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং নির্ভুল হবে।
সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর থেকেই নীট পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অসৎ উপায় বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, যোগ্য ও মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যারা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বাতিল হওয়া পরীক্ষার পুনরায় আয়োজন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ জুন প্রবেশপত্র প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও এবার পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও স্বস্তির সঙ্গে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। এরপর সরকার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তথাকথিত ‘অনুমানভিত্তিক প্রশ্নপত্র’ সরবরাহের আড়ালে একটি চক্র প্রশ্নফাঁসের কাজ চালাচ্ছিল। এই ঘটনার পরেই পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য একটাই— যেন কোনও মেধাবী পরীক্ষার্থী অন্যায়ের শিকার না হন। সৎভাবে প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের পরিশ্রম যাতে বিফলে না যায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই পরীক্ষার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী এই কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি?
কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা হল এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে কম্পিউটারের সামনে বসে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রশ্নপত্র সরাসরি কম্পিউটারের পর্দায় দেখা যায় এবং পরীক্ষার্থীরা মাউসের সাহায্যে সঠিক উত্তর নির্বাচন করেন। এখানে আলাদা করে উত্তরপত্রে গোল ভরাট করার প্রয়োজন হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নিরাপত্তা। প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরিবহণ বা সংরক্ষণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ফলে প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম থাকে। পাশাপাশি ফল প্রকাশের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এছাড়া কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিটি পরীক্ষার্থীর তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং কোনও ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
নতুন করে নাম নথিভুক্ত করতে হবে কি?
পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে জাতীয় পরীক্ষামূলক সংস্থা। জানানো হয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই নীট পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। আগের সমস্ত তথ্য ও পরীক্ষাকেন্দ্রের পছন্দ পুনরায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকবে।
এর পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনও ফি নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আগে যারা আবেদন করেছেন, তারা পুরনো নথিভুক্তির ভিত্তিতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তে বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক স্বস্তি পেয়েছেন। কারণ নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হতে পারত।
পরীক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা দিল সরকার?
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা সৎভাবে পড়াশোনা করছে তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকার তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে, সেজন্য পরীক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কার আনা হচ্ছে।
আগামী বছরের এই নতুন পদ্ধতি মেডিক্যাল প্রবেশিকা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন