নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে সিবিআই অভিযান, গ্রেফতার ৫
জাতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বহু সন্দেহভাজনের খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চলছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ মে উচ্চশিক্ষা দফতরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় স্তরের এই মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার পরিচালনায় গুরুতর অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, দুর্নীতি দমন আইন এবং সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধ সংক্রান্ত আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ৫ জনের মধ্যে ৩ জন জয়পুর থেকে, ১ জন গুরুগ্রাম থেকে এবং ১ জন নাসিক থেকে ধরা পড়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে চালানো তল্লাশিতে মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। প্রযুক্তিগত ও ফরেন্সিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো চক্রের শিকড় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে আরও বড় তথ্য সামনে এসেছে। মূল অভিযুক্ত দিনেশ নাকি ১০ জন পরীক্ষার্থীর কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে তথাকথিত ‘গেস প্রশ্নপত্র’ বিক্রি করেছিল। নগদ টাকা নিয়েই এই লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। দিনেশ দাবি করেছে, সে গুরুগ্রামের যশ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সেই প্রশ্নপত্র পেয়েছিল। জানা গেছে, দিনেশ জয়পুরের একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এদিকে জয়পুর জেলার জামওয়া রামগড় এলাকা থেকে দুই ভাইকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ঘিরে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে সরানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। একের পর এক বিক্ষোভ, অবস্থান ও প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন