প্রশ্ন ফাঁসের জেরে নিট বাতিল, পড়ুয়াদের আর্তনাদ, “আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা হচ্ছে”
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে ৩ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা বাতিলের খবরে ভেঙে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী। কোটা শহরে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া বহু পড়ুয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তাঁদের মনোবল একেবারে তলানিতে পৌঁছে গেছে।
বিকানেরে রাজস্থান রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ চতুর্বেদী এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কঠোর অবস্থান নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কোটা শহরে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রী জিয়া জানায়, “প্রশ্নফাঁসের কারণে আমাদের দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম যেন মুহূর্তে নষ্ট হয়ে গেল। আবার এত কম সময়ের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষার জন্য তৈরি হওয়া খুবই কঠিন। এবার পরীক্ষা দিলেও আগের মতো ফল হবে কি না, তা নিয়ে ভয় কাজ করছে।”
ছাত্র মহম্মদ আহরান বলেন, “যারা প্রশ্নফাঁস করেছে তাদের হয়তো কিছুই হবে না, কিন্তু ২০ থেকে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর উপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। আবার পরীক্ষা দেওয়ার চাপ এখন সবাইকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।”
আরও এক পরীক্ষার্থী জানায়, “বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ছিল, ভালো ফল করে কলেজে ভর্তির আশা ছিল। কিন্তু এখন সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থার উপর আর ভরসা করতে পারছি না।”
কোটা শহরের এক ছাত্রী বলেন, “একবার যে প্রস্তুতির ছন্দ তৈরি হয়, তা আবার ফিরে পাওয়া খুব কঠিন। দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাস এক মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে।”
ধোলপুরের পড়ুয়ারাও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বহু ছাত্রছাত্রী জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে করা প্রস্তুতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সিকরে তিন বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্র ঋষভ বলে, “এটা আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা।”
খুশি তোমর নামে এক ছাত্রী জানায়, “এই সিদ্ধান্তে আমাদের মনোবল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, কারণ এর প্রভাব লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের উপর পড়ছে।”
এক অভিভাবক বলেন, “আমরাই বুঝে উঠতে পারছি না কীভাবে সন্তানদের সাহস দেব। যারা ভালো ফলের আশা করেছিল, তাদের জন্য এটা খুবই কষ্টের। এত কম সময়ে আবার পরীক্ষা দেওয়া সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ।”

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন