খুন নাকি আত্মহত্যা? ত্বিশা শর্মার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : ভোপালে মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশ্যে এসেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের চিকিৎসকদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ত্বিশার মৃত্যু ফাঁস লাগার কারণেই হয়েছে। তবে রিপোর্টে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, যা গোটা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিকিৎসকদের দাবি, গত ১২ মে রাত প্রায় আটটা নাগাদ ত্বিশার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে হালকা আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জানা গেছে, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁর গর্ভপাত হয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।

ময়নাতদন্তে কী জানা গেল

চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ত্বিশার মৃত্যু জীবিত অবস্থায় ফাঁস লাগার ফলেই হয়েছে। তাঁর গলায় উপরের দিকে উঠে যাওয়া দাগ দেখা গিয়েছে, যা সাধারণত ফাঁসের ঘটনায় দেখা যায়। গলার ভিতরের পেশিতে চাপ ও রক্তক্ষরণের চিহ্নও পাওয়া গেছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, গলার গুরুত্বপূর্ণ হাড় অক্ষত ছিল। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে বড় ধরনের লড়াই বা মারধরের স্পষ্ট কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও হাতে এবং শরীরের কয়েকটি অংশে ছোটখাটো আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।

এই আঘাতগুলি কীভাবে এল, তা নিয়ে এখন তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, মৃত্যুর আগে কোনও ধস্তাধস্তি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফুসফুসে সমস্যা ও চোখে রক্তক্ষরণের চিহ্ন

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ত্বিশার দুই ফুসফুসেই ফোলা ভাব এবং রক্ত জমাটের লক্ষণ ছিল। চোখের ভিতর ছোট ছোট রক্তক্ষরণের দাগও দেখা গেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাঁস লাগার ঘটনায় এমন উপসর্গ প্রায়ই দেখা যায়।

রিপোর্টে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শরীরে গুরুতর যৌন নির্যাতন বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীরা সব দিক খতিয়ে দেখতে চাইছেন।

রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা

ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে ত্বিশার শরীর থেকে রক্ত, ভিসেরা এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, মৃত্যুর আগে তিনি কোনও নেশাজাতীয় বা বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন কি না।

এছাড়াও জিনগত পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পরীক্ষাগারের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলে তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

ছাদের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার

ময়নাতদন্তের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়ির ছাদে জিমন্যাস্টিকের রিংয়ের দড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ত্বিশাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়ির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় বাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শ্বশুরবাড়িতে রহস্যমৃত্যু

মাত্র ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশা শর্মা গত ১২ মে রাতে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে পণজনিত মৃত্যু ও মানসিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছে।

জানা গেছে, গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে না তদন্তকারীরা। পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

তদন্তকারীরা ত্বিশার মোবাইল ফোন, বার্তা আদানপ্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ত্বিশার মৃত্যুর আগে হওয়া গর্ভপাতের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই সময় তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

রহস্য আরও ঘনীভূত

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ফাঁসের কথা স্পষ্ট হলেও, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং মৃত্যুর আগের নানা ঘটনার কারণে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত তদন্তকারীরা কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পরীক্ষাগারের রিপোর্টের দিকে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিরহাদের ইস্তফা, অভিষেককে তলব, ঋতব্রতের উত্থান! একদিনে তৃণমূলে তিন বড় ধাক্কা

১ জুন পার, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন ফর্ম নিয়ে ধোঁয়াশা! পোর্টালে নেই নতুন আপডেট

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর