প্রতি মাসে ২ সেমি বসে যাচ্ছে এই শহর! নাসা–ইসরোর স্যাটেলাইটে চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁস
ধীরে ধীরে মাটির নিচে ধসে যাচ্ছে মেক্সিকো। বিজ্ঞানীদের মতে, শহরের কিছু অংশ প্রতি মাসে প্রায় ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। এই বিপদের ওপর নজর রাখতে নাসা এবং ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরোর যৌথ স্যাটেলাইট মিশন নিসার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উপগ্রহ মাটির খুব সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করতে সক্ষম।
মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রীয় এলাকা এই সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখানে অবস্থিত বিখ্যাত ক্যাথেড্রাল একদিকে হেলে গেছে, আর তার পাশের গির্জা অন্যদিকে হেলে রয়েছে। ন্যাশনাল প্যালেসের ভবনও বাঁকা হয়ে গেছে বলে দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, শহরটি গত প্রায় ১০০ বছর ধরে ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে, তবে এখন এর গতি আরও বেড়ে গেছে।
মাটির বসে যাওয়ার কারণে কোথাও কোথাও সিঁড়ি যোগ করতে হয়েছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, নিসার স্যাটেলাইট দেখিয়েছে যে মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকা প্রতি মাসে ২ সেন্টিমিটারেরও বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি বিশ্বের মধ্যে মাটি বসে যাওয়ার অন্যতম দ্রুত হার হিসেবে ধরা হচ্ছে। শহরের বিখ্যাত অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেনডেন্স স্মৃতিস্তম্ভও এই সমস্যার বড় উদাহরণ। এটি ১৯১০ সালে তৈরি হলেও, চারপাশের মাটি নিচে নেমে যাওয়ার কারণে এর নিচে এখন পর্যন্ত ১৪টি নতুন সিঁড়ি যোগ করতে হয়েছে।
কেন বসে যাচ্ছে এই শহর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকো সিটি একটি প্রাচীন হ্রদের ওপর গড়ে উঠেছে। এখানে মাটি খুব নরম ও কাদামাটি ধরনের। শহরের প্রায় অর্ধেক জলের চাহিদা ভূগর্ভস্থ জল থেকে পূরণ করা হয়। অতিরিক্ত পরিমাণে জল তোলার ফলে মাটির ভেতরের স্তর সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং শহর ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে। নাসার এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, যত দ্রুত ভূগর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে, তত দ্রুত বৃষ্টির জল আবার মাটির ভেতরে ফিরতে পারছে না। ফলে মাটি ক্রমাগত চাপা পড়ে যাচ্ছে।
রাস্তা, পাইপলাইন ও মেট্রোর ওপর প্রভাব
মাটির বসে যাওয়ার প্রভাব পুরো শহরজুড়ে দেখা যাচ্ছে। অনেক রাস্তা ফেটে যাচ্ছে, ভবনগুলো হেলে পড়ছে এবং জলের পাইপলাইন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ জল লিক হয়ে নষ্ট হচ্ছে। মেট্রো ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কম বৃষ্টি এবং বাড়তে থাকা জলের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার কমানো না গেলে ভবিষ্যতে শহরের অনেক এলাকায় জলের বড় সংকট দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নাসার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া নতুন তথ্য এই সমস্যাকে আরও ভালোভাবে বোঝাতে এবং ভবিষ্যতের বিপদ কমাতে সাহায্য করবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন