যুবভারতীর ‘মেসি কাণ্ডে’ দুর্নীতির গন্ধ? নথি তলব নিশীথের
কলকাতায় লিওনেল মেসিকে ঘিরে যে তীব্র বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ আর উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। এবার সেই ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়ে বিস্ফোরক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্যের নতুন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজ্যের নতুন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সরাসরি নিশানায় তুললেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর দাবি, মেসিকে ঘিরে যে চরম বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল বড়সড় গাফিলতি ও দুর্নীতির গন্ধ।
১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে দেখতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। বহু দর্শক মোটা টাকার টিকিট কেটেও মাঠে মেসির মুখ ঠিকভাবে দেখতে পাননি। মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, “যা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুরো ঘটনার নথি আমি চেয়ে পাঠিয়েছি। তদন্তের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলব। কোথাও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়া হবে না।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—মেসির নামে কোটি কোটি টাকার খেলা হয়েছিল কি?
মেসি চলে যেতেই ভাঙচুর, ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা
সেই দিন যুবভারতীতে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসিকে একঝলক দেখার আশায় মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করেন। অভিযোগ, বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে বহু দর্শক আসনই খুঁজে পাননি। মেসি মাঠ ছাড়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামের ভিতরে ভাঙচুর চালায়। গোটা ঘটনায় মূল আয়োজক সুতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সরকার বদলের পর থেকেই সুতদ্রু দত্ত দাবি করে আসছেন, পুরো বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এবার নতুন মন্ত্রীর মন্তব্যে সেই অভিযোগ আরও জোরালো হল।
যারা মোটা টাকা খরচ করেও মেসিকে দেখতে পারেননি, তাদের ক্ষোভ এখনও তুঙ্গে। সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নিশীথ বলেন, “এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন বড় আয়োজন করা হবে যাতে মানুষ আগের অপমান ভুলে যায়।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী এখানেই থামেননি। রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়েও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। নিশীথের অভিযোগ, “তৃণমূলের আমলে শুধু স্বজনপোষণ আর দুর্নীতি হয়েছে। ভালো প্রশিক্ষক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা পাঠাতে চাইলেও কেন্দ্রের সংস্থার কথা শোনা হয়নি।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মনের নাম। নিশীথের দাবি, রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই স্বপ্নার মতো প্রতিভাকে অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছে।
এবার লক্ষ্য অলিম্পিক, দাবি নতুন সরকারের
নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, আগের সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে এবার জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর কথায়,
“আমাদের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও বেশি খেলোয়াড়কে অলিম্পিকে পাঠানো। নতুন প্রজন্মের জন্য সবরকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।”
এখন দেখার, ‘মেসি কাণ্ডের’ তদন্তে সত্যিই বড় কোনও নাম সামনে আসে কি না, নাকি রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই চাপা পড়ে যায় কোটি টাকার সেই বিতর্ক।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন