আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা! হিংসা রুখতে আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি, পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার আইনজীবীর ভূমিকায় কলকাতা হাই কোর্টে হাজির হন। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষান্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে তিনি আদালতের কাছে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান। বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা বাড়ছে। জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে, শাসন পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও এই হিংসার শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ১০ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। খেজুরিতে প্রায় ৬০টি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। হিংসার জেরে বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন এবং আতঙ্কের কারণে বাড়ি ফিরতেও সাহস পাচ্ছেন না।
মামলার সঙ্গে কিছু ছবি ও দৃশ্যপ্রমাণও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মমতার অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। আক্রান্তদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এমনকি বহু ক্ষেত্রে অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়নি।
আদালতে তিনি আরও বলেন, এই হিংসা সংবিধানে উল্লেখিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, হিংসার ঘটনায় অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে, ঘরছাড়া মানুষদের নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও ভাঙা বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন