ইতিহাস গড়ল এবারের আইপিএলের আসর! সব দলের ব্যাটসম্যানের ঝুলিতে সেঞ্চুরি

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : ভারতের জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার এবারের আসর একাধিক কারণে বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। শুরু থেকেই নানা নতুন ঘটনা, চমকপ্রদ পারফরম্যান্স এবং রেকর্ড গড়ার সাক্ষী হয়েছে এই মরসুম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইতিহাসে প্রথমবার এমন একটি নজির তৈরি হয়েছে যা গত উনিশ বছরের প্রতিযোগিতায় কখনও দেখা যায়নি। এবারের আসরে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের অন্তত একজন করে ব্যাটসম্যান শতরান করেছেন।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ঘটনাকে বিরল এবং ঐতিহাসিক বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রতিযোগিতার আয়োজকদের পক্ষ থেকেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ বার্তায় সেই সব ব্যাটসম্যানদের ছবি তুলে ধরা হয়, যাঁরা চলতি মরসুমে শতরান করেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে এবারের আসরে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য কতটা প্রবল হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানও অনেক বেড়েছে।

এই মরসুমের শুরু থেকেই একাধিক পরিবর্তন নজরে এসেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল নতুন মর্যাদায় মাঠে নেমেছে। আবার বড় দলবদলের ফলে কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে নতুন দলে খেলতে দেখা যাচ্ছে। ফলে সমর্থকদের আগ্রহও অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পাশাপাশি তরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবারের প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চলতি মরসুমে শতরান করা ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন একাধিক পরিচিত নাম। চেন্নাইয়ের হয়ে খেলতে নেমে সঞ্জু স্যামসন দু’টি শতরান করেছেন। ধারাবাহিকভাবে বড় রান করে তিনি নিজের দলকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং অসাধারণ আত্মবিশ্বাস।

গুজরাটের তরুণ ব্যাটসম্যান সাই সুদর্শনও এবারের মরসুমে শতরান করেছেন। শান্ত মেজাজে দীর্ঘ ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ভূমিকা নিতে পারেন তিনি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলির শতরানও এবারের অন্যতম বড় আকর্ষণ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই প্রতিযোগিতার অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং চাপের মধ্যে খেলার দক্ষতা এখনও সমানভাবে কার্যকর। এবারের শতরানের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলা হয়।

হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেক শর্মার শতরান ক্রিকেটমহলে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রেখেছিলেন।

একইভাবে দিল্লির হয়ে কেএল রাহুলের শতরানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধৈর্য এবং পরিণত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন।

লখনউয়ের হয়ে মিচেল মার্শের শতরান ছিল শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী ইনিংসের উদাহরণ। বড় শট খেলার ক্ষমতা দিয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। অন্যদিকে রাজস্থানের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর শতরান অনেককে চমকে দিয়েছে। তরুণ বয়সে এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

পাঞ্জাবের হয়ে কুপার কনোলির শতরানও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। মুম্বইয়ের হয়ে রায়ান রিকেলটন, তিলক বর্মা এবং কুইন্টন ডি ককের শতরানও সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে তিলক বর্মার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিণত ভাবনা এবং ধারাবাহিকতা।

কলকাতার হয়ে ফিন অ্যালেনের শতরান ছিল বিস্ফোরক ইনিংসের নিখুঁত উদাহরণ। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিযোগিতায় তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মিশ্রণই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এই সমস্ত শতরানের মধ্যেও বিরাট কোহলির নাম আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শতরানের মালিক তিনিই। তাঁর ব্যাট থেকে এখন পর্যন্ত মোট নয়টি শতরান এসেছে। ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং মানসিক দৃঢ়তার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছেন।

শতরানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জোস বাটলার। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে সাতটি শতরান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ক্রিস গেইল এবং কেএল রাহুল। দু’জনেরই রয়েছে ছয়টি করে শতরান। গেইল আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও তাঁর রেকর্ড এখনও সমানভাবে স্মরণীয়।

অন্যদিকে কেএল রাহুল এখনও সক্রিয় ক্রিকেট খেলছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। তালিকার পরবর্তী স্থানে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন এবং শুভমন গিল। সঞ্জুর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি শতরান, আর শুভমনের রয়েছে চারটি।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের মরসুমে ব্যাটসম্যানদের সাফল্য যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই দর্শকদের আগ্রহও অনেক বাড়িয়েছে। বড় রান, দ্রুত ব্যাটিং এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচের কারণে প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের মরসুম ইতিমধ্যেই ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিটি দলের হয়ে শতরান হওয়ার বিরল নজির ভবিষ্যতেও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, মরসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আরও নতুন কোনও রেকর্ড তৈরি হয় কি না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ