রাজ্যে বিজেপির জয়ের পর বদলাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সমীকরণ? অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিদেশ মন্ত্রকের
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আজ সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে অপারেশন সিঁদুর, স্ট্রেট অফ হরমুজ, কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা এবং বাংলাদেশ-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত ২৮৬০টিরও বেশি মামলা এখনও বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত।
তিনি জানান, ভারতের নীতি স্পষ্ট—দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানো হবে। একইসঙ্গে ভারত আশা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ যাচাই প্রক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। MEA জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মন্তব্য বারবার সামনে আসছে এবং এগুলোকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তন ইস্যুর প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত।
বিজেপির জয়ের পর কী বললেন খলিলুর রহমান?
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,“দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও নতুন সরকার গঠন হয়নি। তারা কী ভাবছে বা কী করবে, সেটা তারাই বলতে পারবে। তাদের মনের কথা পড়া আমার কাজ নয়। তবে তিস্তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন।”
অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে ঢাকার অবস্থান
বাংলাদেশ সরকারের সরকারি অবস্থান হল, শুধুমাত্র যাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যাবে এবং যাদের যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে, তাদেরই গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও বজায় রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন