চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর! শুভেন্দুর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে চাকরির বয়সসীমা বাড়ল ৫ বছর

 


নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কাটানো হবে এবং দীর্ঘদিন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের নতুন সুযোগ দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। সোমবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরির নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা এককালীন ৫ বছর বাড়ানো হচ্ছে।

তৃণমূল আমলে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী বয়সসীমা পেরিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সুযোগ হারিয়েছিলেন। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাঁদের সামনে আবারও সরকারি চাকরির দরজা খুলে গেল। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এমন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট বার্তা দিলেন— কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ নিয়োগই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

শনিবার শপথ নেওয়ার পর সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় নির্ধারিত কক্ষে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। যদিও এখনও দফতর বণ্টন সম্পূর্ণ হয়নি, তবুও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিশ্রুতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ

নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন, যাঁরা চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন তাঁদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ৫ বছরের অতিরিক্ত সুযোগ তাঁদের কাছে নতুন জীবনের মতো, যাঁরা শুধুমাত্র বয়সের কারণে এতদিন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও জমি হস্তান্তর

রাজ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করতে নারাজ নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প ও বর্ডার পোস্ট তৈরির জন্য জমি হস্তান্তরের ফাইলেও সোমবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বাংলায় কার্যকর হবে প্রকৃত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করেনি। তিনি জানান, এখন থেকে বাংলায় সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসন চলবে। পাশাপাশি আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনীহা ছিল, তা দূর করতে অন্য রাজ্যের নিয়ম অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক প্রকল্প ও আগামী পরিকল্পনা

সরকার বদলের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনায় জল ঢেলে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ সমস্ত জনকল্যাণ প্রকল্প চালু থাকবে, তবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরজি কর ও সন্দেশখালি মামলার তদন্ত, সপ্তম বেতন কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন, “আমরা এমনভাবে কাজ করব যাতে বাকি চার-পাঁচ শতাংশ সমালোচকরাও ভুল ধরতে না পারেন।”

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ