ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা, সাংবিধানিক অস্ত্র ব্যবহার রাজ্যপালের! ১৫ বছরের শাসনের অবসান
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই বড় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল।
ভারতের সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার ‘বি’ উপধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন তিনি।
বুধবার, ৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংসদীয় বিষয়ক দপ্তরের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ৭ মে ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান বিধানসভার কার্যকাল শেষ হয়ে গেল।
রাজ্যপাল আর এন রবির স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা জনস্বার্থে প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। সাধারণত নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের আগে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়া সাংবিধানিক প্রথা হলেও, এবারের পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সপ্তদশ বিধানসভার কার্যকাল শেষ হল এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে অষ্টাদশ বিধানসভা গঠনের পথ পরিষ্কার হয়ে গেল। খুব শীঘ্রই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ এবং নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশন ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে, টানা ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা হারাতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় একশো আসনে ভোট লুট ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি পরাজিত হননি, বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হারানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকারও করেন তিনি। এরপরই রাজ্যপালের তরফে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকালও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন