দুর্ঘটনায় থামেনি বিয়ে! আইসিইউতেই কনের সিঁথি সিঁদুরে রাঙাল বর, আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল
আজকাল সামান্য কারণেই প্রেমিক যুগলদের সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের গোরখপুর জেলায় সামনে এল নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক বিরল উদাহরণ। যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দে উৎসবের পরিবেশ ছিল, সেখানে হঠাৎ এক দুর্ঘটনা সব সুখের মুহূর্তকে দুঃখে বদলে দেয়। তবে পাত্রের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আবার সেই বাড়িতে ফিরিয়ে আনে হাসি।
জানা গিয়েছে, বাঁশগাঁও এলাকার হাটওয়ার গ্রামের পূজা যাদবের সঙ্গে মহুয়া এলাকার সানি যাদবের বিয়ে ঠিক ছিল ১৩ মে। পূজা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেদিন তাঁর বিয়ে ছিল, সেদিনই ছিল পরীক্ষাও। পরীক্ষা দিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় আচমকা মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যান পূজা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাড়িতে এই খবর পৌঁছাতেই মুহূর্তে থমকে যায় বিয়ের আনন্দ। আত্মীয়-স্বজনের মুখে শুরু হয় নানা আলোচনা। কিন্তু কনের দুর্ঘটনার খবর পেয়েও পিছিয়ে যাননি পাত্র। বরং গভীর রাতে বরযাত্রী নিয়ে সোজা হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি।
রাত প্রায় একটা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছে সানি দেখেন, তাঁর হবু স্ত্রী নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে শুয়ে চিকিৎসাধীন। তড়িঘড়ি পুরোহিতকে ডেকে আনা হয়। হাসপাতালের মধ্যেই মন্ত্রোচ্চারণ শুরু হয়। সবার চোখের সামনে নিবিড় পরিচর্যা কক্ষেই পূজার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন সানি। উপস্থিত সকলেই এই দৃশ্য দেখে আবেগে ভেসে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর পূজার শরীর থেকে অনেক রক্ত বেরিয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। বিয়ে হবে কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন সবাই। কিন্তু বর যখন হাসপাতালে পৌঁছে বিয়ে সম্পন্ন করেন, তখন আবার ফিরে আসে আনন্দের পরিবেশ।
হাসপাতালে সিঁদুরদান সম্পন্ন হওয়ার পর বর নিজের গ্রামে ফিরে গিয়ে বিয়ের বাকি আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। পরে সন্ধ্যায় আবার কনের গ্রামেও যান এবং সেখানে দ্বারপূজাসহ অন্যান্য রীতিনীতি পালন করা হয়।
গোরখপুরের এই বিয়ে এখন চারদিকে ভালোবাসা, দায়িত্ব আর অটুট সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন