ভোট শেষ হতেই ‘সংকট’ মনে পড়ল! ভার্চুয়াল বৈঠকে ভোটের প্রচার হল না কেন? বিজেপিকে তোপ অখিলেশের
পশ্চিম এশিয়ায় গভীরতর সংকট এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বড় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মানুষকে বাড়ি থেকে কাজ করা, তেল কম ব্যবহার করা, বিদেশ সফর কমানো এবং সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এবার কটাক্ষ করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। তিনি বলেন, ভোট শেষ হতেই প্রধানমন্ত্রীর সংকটের কথা মনে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ভোটের সময় প্রচারের জন্য ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করা হল না কেন?
সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অখিলেশ। তিনি লেখেন, “ভোট শেষ হতেই সংকটের কথা মনে পড়ল! আসলে দেশের সবচেয়ে বড় সংকটের নামই বিজেপি।”
অখিলেশ কটাক্ষ করে বলেন, এত নিষেধাজ্ঞা চাপালে পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন কীভাবে পূরণ হবে? তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারের হাত থেকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেরিয়ে গিয়েছে। ডলারের দাম আকাশছোঁয়া, আর ভারতীয় মুদ্রার মূল্য ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনা না কেনার আবেদন প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টি প্রধান বলেন, এই আহ্বান সাধারণ মানুষের কাছে নয়, বিজেপির দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কাছে করা উচিত। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ এমনিতেই বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার সামর্থ্য রাখে না। বিজেপির নেতারাই কালো টাকাকে সোনায় বদল করতে ব্যস্ত বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমস্ত বিধিনিষেধের কথা ভোটের পরেই কেন মনে পড়ল? অখিলেশের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় বিজেপির নেতারা হাজার হাজার উড়ান ব্যবহার করেছেন, বিলাসবহুল হোটেলে থেকেছেন, তখন কি জ্বালানির কথা মনে ছিল না? তিনি আরও প্রশ্ন করেন, প্রচারের জন্য ভার্চুয়াল বৈঠক বা অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবহার তখন কেন করা হল না? সব নিয়ম কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য— এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অখিলেশ দাবি করেন, এই ধরনের আবেদন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাজারে আতঙ্ক তৈরি করবে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধি ও মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, সরকারের কাজ হল সংকটের সময় মানুষকে ভরসা দেওয়া, আতঙ্ক ছড়ানো নয়। যদি সরকার পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করা উচিত, দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া নয়।
বিদেশনীতি নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ, ভারত বহুদিন ধরে জোটনিরপেক্ষ নীতিতে চললেও বর্তমান সরকার কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবের দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলেই দেশের মানুষকে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চাপে পড়তে হচ্ছে। কৃষক, শ্রমিক, যুবক, গৃহবধূ, চাকরিজীবী— সকলেই এই পরিস্থিতির শিকার বলে দাবি করেন তিনি।
অখিলেশ আরও বলেন, বিজেপি ভোটের রাজনীতিতে প্রতারণা ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছে। সমাজে ঘৃণা ছড়িয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক— সব ক্ষেত্রেই দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, রবিবার তেলঙ্গানায় একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সংযমের বার্তা দিয়েছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস খুব ভেবেচিন্তে ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় দেশ বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইন বৈঠক এবং ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই ব্যবস্থাগুলিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন