ট্রাম্প চীনে পৌঁছতেই বড় কূটনৈতিক বার্তা! বিমানবন্দরে গেলেন না শি জিনপিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে একটাই ঘটনা—চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাননি। তাঁর বদলে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানান চীনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনায় বিশ্বের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিল বেইজিং।
চীনা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং, চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পাডরিউ, আমেরিকায় চীনের রাষ্ট্রদূত শি ফেং এবং চীনের বিদেশ মন্ত্রকের কার্যনির্বাহী উপমন্ত্রী মা ঝাওসু। ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাতে সাদা ও নীল পোশাকে প্রায় তিনশো তরুণ-তরুণী এবং একটি বাদ্যযন্ত্র দলও মোতায়েন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইজরায়েল, সৌদি আরব ও কাতার সফর করেছেন। সেই সব দেশেই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দেশের শীর্ষ নেতা। কিন্তু চীনে এসে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি নিছক প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং তা দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা।
এর আগেও ২০১৭ সালে ট্রাম্প চীন সফরে গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন চীনের বিদেশ দপ্তরের এক আধিকারিক। এবার অন্তত উপরাষ্ট্রপতিকে পাঠিয়ে কিছুটা গুরুত্ব দেখানোর চেষ্টা করেছে বেইজিং। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৯ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন শি জিনপিং নিজেই, যখন তিনি চীনের উপররাষ্ট্রপতি ছিলেন।
এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্কনীতি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান প্রশ্ন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, ইরান পরিস্থিতি, বিরল খনিজ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের সফরের আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রীও চীন সফর করেছেন, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে জোরালো আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে চীনে পৌঁছেছেন বিশ্বের একাধিক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইলন মাস্ক, টিম কুক, ল্যারি ফিঙ্ক, স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, ডেভিড সলোমন, সঞ্জয় মেহরোত্রা, ক্রিস্টিয়ানো আমোন-সহ আরও অনেকে। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে কূটনৈতিক মহল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন