একে অপরকে দেবে গোপন তথ্য! পাকিস্তান-বাংলাদেশের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় একে অপরের সঙ্গে গোপন তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ এমন কোনও সমঝোতা প্রস্তাব তৈরি করল। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছর ধরে দুই দেশ একে অপরকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে, যার ফলে উভয় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—দুই দেশই ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের দৈনিক “নয়া দিগন্ত”-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা ও ইসলামাবাদ ১০ দফার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি তৈরি করেছে। সম্প্রতি এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা আধিকারিকরা ঢাকা সফর করেন। পাকিস্তানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কী কী রয়েছে?
প্রতিরক্ষা গবেষণা মহলের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গোপন তথ্য একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, জঙ্গিবাদ দমনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করা হবে, তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত সমঝোতা হতে পারে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে তেহরিক-ই-তালিবানের মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরকারি নথিতে জালিয়াতি রুখতে দুই দেশ নতুন সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আওতায় প্রযুক্তিগত তথ্যও একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর বেড়েছে ঘনিষ্ঠতা
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একাধিক বাণিজ্য চুক্তি করে। পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে এগিয়ে যায়।
তারেক রহমানের দলকে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। অতীতেও বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে এত বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ আগে কখনও দেখা যায়নি।
এই চুক্তি ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৩৩২৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৪০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন