রূপচর্চার নামে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ইনজেকশন ব্যবহারে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : দেশজুড়ে বিভিন্ন সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্র, ত্বক পরিচর্যা ক্লিনিক ও সুস্থতা পরিষেবা কেন্দ্রে ইনজেকশনের মাধ্যমে নানা ধরনের রূপচর্চার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ত্বক উজ্জ্বল করা, বয়সের ছাপ কমানো, মুখের গঠন বদলানো কিংবা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু জায়গায় নানা ধরনের প্রসাধনী উপাদান শরীরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এবার এই বিষয়েই কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় ঔষধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও প্রসাধনী সামগ্রীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ব্যবহার করার অনুমতি নেই। এই ধরনের ব্যবহার আইনবিরোধী বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এমন দাবি বা প্রচার চালালে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ক্লিনিক কিংবা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার।

ভারতের ঔষধ মহানিয়ন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রসাধনী প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি এমন কোনও দাবি করতে পারবে না যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কোনও প্রসাধনীর মোড়ক, গায়ের লেখা, প্রচারপত্র বা বিজ্ঞাপনে অতিরঞ্জিত দাবি, রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি কিংবা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন অনুসারে প্রসাধনী বলতে সেই সব সামগ্রীকে বোঝায় যা শরীরের বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়। যেমন ত্বক পরিষ্কার রাখা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সুগন্ধ বা ব্যক্তিগত পরিচর্যার উদ্দেশ্যে এইসব সামগ্রী ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সেগুলিকে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করানো বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা আইনসম্মত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নানা সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্রে ত্বক ফর্সা করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো বা বয়সের ছাপ কমানোর নামে ইনজেকশন ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ না বুঝেই এই ধরনের পরিষেবা গ্রহণ করছেন। কিন্তু শরীরে সরাসরি কোনও উপাদান প্রবেশ করালে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে। সংক্রমণ, ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কেন্দ্রীয় সংস্থা আরও জানিয়েছে, নিষিদ্ধ বা অনিরাপদ উপাদান মিশিয়ে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধুমাত্র সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করা যাবে না। সেই কারণে এই ধরনের পরিষেবার উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

সরকার সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও যদি প্রসাধনী সামগ্রীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, অথবা ভুয়ো প্রচারের মাধ্যমে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা রাজ্যের লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধির নানা বিজ্ঞাপন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে নামী ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে এমন ধারণা তৈরি করা হয় যে এইসব পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই সেই দাবি সত্য নয়। তাই কোনও ধরনের রূপচর্চা বা ত্বকের পরিচর্যা গ্রহণের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে অনেক ছোট কেন্দ্রেও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক সময় ব্যবহৃত উপাদানের গুণমান বা অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, সৌন্দর্যচর্চার নামে ব্যবসা বাড়াতে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। পরিষ্কার নিয়ম ও কড়া নজরদারি থাকলে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিষেবা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

সৌন্দর্য বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে নতুন নয়। তবে সেই ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে যাতে কেউ বিপজ্জনক বা আইনবিরোধী পদ্ধতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই এবার কঠোর বার্তা দিল কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে সুস্থ শরীর ও নিরাপদ পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ