‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ওয়েবসাইট বন্ধ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ অভিজিৎ দীপকের

 


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের জেরে নতুন করে বিতর্কে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দেশের প্রধান বিচারপতি -র একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই অনলাইন প্রচার ধীরে ধীরে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যেই দলটির সামাজিক মাধ্যমের পাতা বন্ধ হওয়ার পর এবার তাদের সরকারি ওয়েবসাইটও অচল হয়ে গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেছেন, কেন্দ্র সরকারের চাপে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ সদস্য হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। পাশাপাশি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদনে কয়েক লক্ষ মানুষ সমর্থনও জানিয়েছিলেন।

অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করায় ধারাবাহিকভাবে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচারাভিযানকে ঘিরে সরকার এতটা অস্বস্তিতে কেন পড়ছে। তাঁর দাবি, দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেই দাবিকেই দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “ককরোচকে সহজে শেষ করা যায় না”, এই প্রতীক ব্যবহার করে তাঁরা বোঝাতে চাইছেন যে প্রতিবাদ কখনও পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না।

এর আগেও অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং দলীয় পাতা হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রথমে তাঁদের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমের পাতা অচল করা হয়। পরে তাঁর ব্যক্তিগত পাতাতেও সমস্যা তৈরি হয়। এরপর একের পর এক বিকল্প পাতাও বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ব্যঙ্গাত্মক প্রচার মূলত দেশের তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে। শিক্ষা, চাকরি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু তরুণের ক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। সেই আবহেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই প্রচার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হাস্যরস এবং ব্যঙ্গের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, রাজনৈতিক মত প্রকাশের অন্যতম বড় মাধ্যমেও পরিণত হয়েছে। তরুণদের বড় অংশ এখন নিজেদের বক্তব্য সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে তুলে ধরছেন। ফলে কোনও বিষয় দ্রুত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ক্ষেত্রেও সেই চিত্রই দেখা গেছে।

এই প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করা। বিশেষ করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষকে শাসক দলের সামাজিক মাধ্যমের পাতা অনুসরণ না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন তিনি। এর জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়।

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচারের অনুসরণকারীর সংখ্যা কয়েক কোটি ছুঁয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এত অল্প সময়ে এত বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের একাংশ এই প্রচারকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে শাসক দলের অনেক নেতা এই ধরনের অনলাইন আন্দোলনের পিছনে সংগঠিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা এই প্রচারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে খবর। বিশেষ করে কয়েকজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচারকে অনুসরণ করা শুরু করার পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় উঠে আসে। ফলে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হলেও তা এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে এই ঘটনাকে ঘিরে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ বা সমালোচনার জায়গা কতটা স্বাধীন থাকা উচিত। অন্যদিকে একাংশের মত, ভুয়ো তথ্য বা উস্কানিমূলক প্রচার রুখতে কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এই দুই মতের টানাপোড়েনের মধ্যেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের ব্যঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল প্রচার আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান প্রজন্ম সরাসরি রাজনৈতিক ভাষণের চেয়ে হাস্যরস, ব্যঙ্গ এবং ছোট ছোট অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য বেশি সহজে প্রকাশ করছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও এখন সামাজিক মাধ্যমের এই নতুন প্রবণতাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রচার কীভাবে কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নেয় কি না, নাকি সামাজিক মাধ্যমের ঝড় হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ