বিধানসভায় এবার সরাসরি সম্প্রচার, বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! স্পিকার হলেন উত্তরবঙ্গের রতীন্দ্র বোস


ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে এবার থেকে রাজ্য বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে বিধানসভায় কী আলোচনা হচ্ছে, কোন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং জনগণের স্বার্থে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেই কারণেই বিধানসভার অধিবেশন এবার সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিধানসভার ভেতরের কার্যকলাপ সম্পর্কে শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দেখতে পারবেন বিধায়করা কী বলছেন, কোন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।





ভারতের একাধিক রাজ্যে বহু আগেই বিধানসভার কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ মানুষ নিয়মিতভাবে বিধানসভার অধিবেশন দেখতে পান। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের একাংশ বহুদিন ধরেই সরাসরি সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে নতুন সরকারের আমলে সেই দাবিই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।





এদিকে নতুন সরকারের অধীনে বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের বিধায়ক রতীন্দ্র বোস সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেয়নি। ফলে রতীন্দ্র বোসের নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিতই ছিল।





রাজনৈতিক মহলে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনও বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের পদে বসেছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে শাসকদল ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গের একজন প্রতিনিধিকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 





অনেকের মতে, এর মাধ্যমে সরকার উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি আগেই নিশ্চিত ছিলেন যে রতীন্দ্র বোস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।




 তাঁর মতে, নতুন স্পিকার বিধানসভার মর্যাদা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সব দলের সদস্যদের সমান গুরুত্ব দেবেন। অন্যদিকে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর রতীন্দ্র বোসও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন। কোনও বিষয়ে প্রয়োজন হলে বিধানসভার প্রবীণ সদস্যদের পরামর্শ নেবেন বলেও তিনি জানান।





তিনি আরও বলেন, তাঁর কাজের মূলনীতি হবে “সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন”। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও সকল সদস্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা হলো গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং সেখানে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রতীন্দ্র বোস দীর্ঘদিন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।




 সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগেই তিনি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ ভৌমিককে প্রায় তেইশ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তাঁর এই জয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।




রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তনকে অনেকেই নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। একদিকে বিধানসভার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিকে স্পিকার পদে বসানো— দুই সিদ্ধান্তই সরকারের নতুন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার স্বচ্ছতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের বার্তা দিতে চাইছে।





বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ২৯৪। তার মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন সরকার একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিধানসভার সরাসরি সম্প্রচার সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।





রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি সম্প্রচার চালু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা আরও বাড়বে। মানুষ বুঝতে পারবেন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কতটা সক্রিয়ভাবে এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন। একইসঙ্গে বিধায়কদের উপরেও জনদায়বদ্ধতার চাপ বাড়বে। কারণ তাঁদের বক্তব্য ও আচরণ সরাসরি জনগণের সামনে পৌঁছে যাবে।




সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই নতুন উদ্যোগ বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রভাব কতটা পড়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুর্শিদাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীর সমর্থকদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আম আদমি পার্টিতে ফাটল! রাঘব-স্বাতি সহ বিজেপিতে একাধিক সাংসদ