অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ওপর শুভেন্দু সরকারের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ৯০০-র বেশি পদে কাটছাঁট
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে অবসর নেওয়ার পরও যেসব সরকারি আধিকারিক পুনরায় নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বিভিন্ন দপ্তরে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তবে নতুন সরকারের মতে সেই প্রথা এবার বন্ধ করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিভিন্ন বোর্ড, সংস্থা এবং সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানে যাঁরা মনোনীত সদস্য, পরিচালক বা সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করতে হবে। এই বিষয়ে সমস্ত দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং সচিবদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
যাঁদের বয়স ষাট বছরের বেশি এবং যাঁদের অবসর নেওয়ার পর পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বা যাঁদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় নয়শোর বেশি উপদেষ্টা এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কাজ করছিলেন, যাঁদের অনেককেই পূর্ববর্তী সরকারের সময় পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যেও ষাট বছরের বেশি বয়সীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাঁকে জানাতে বলা হয়েছে। ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারকে সরকারের মতোই কাজ করতে হবে এবং প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত পনেরো বছরে প্রশাসনিক কাজে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এখন থেকে সেই ধরনের অতিরিক্ত গুরুত্ব বা বিশেষ ব্যবস্থার প্রথা আর থাকবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের আরও কিছু নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন—
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করতে হবে
শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনেই সরকারি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
কেন্দ্রের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে
কাজের দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
একটি বার্তা আদান-প্রদানের গ্রুপ তৈরি করা হবে, যেখানে সকল সচিব এবং মুখ্যমন্ত্রী যুক্ত থাকবেন
কোনো গাফিলতি হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তিনি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো আধিকারিককে অপমান করা বা জনসমক্ষে অসম্মান করার পদ্ধতির সমর্থন করেন না। সরকার সবসময় মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে পরিচালিত হবে। তবে কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং ভুল হলে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন