সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্য

ভবানীপুরে বড় ধাক্কা! ১৫ হাজার ভোটে হেরে গেলেন মমতা, জয়ের হাসি হাসলেন শুভেন্দু

  কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ভবানীপুরে জমে উঠেছে লড়াই। ভবানীপুরে বিজয়ী শুভেন্দু অধিকারী। হেরে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিকে ওঠানামার পর গণনা যত এগিয়েছে, ততই পাল্টে যায় ফলাফলের ছবি। ১৯ রাউন্ড গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ১৯,০০৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শুরুতে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে ছিলেন, সেখানে পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে ধীরে ধীরে লিড বাড়াতে থাকেন শুভেন্দু। ১৮ রাউন্ড শেষে তাঁর লিড ছিল ১১,০০৩ ভোট, যা ১৯ রাউন্ডে এসে বড় ব্যবধানে পৌঁছে যায়। তার আগে ১৭ রাউন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে পড়েন ৬,২৩৫ ভোটে। আরও আগে ১৫ রাউন্ড পর্যন্ত অবশ্য তিনিই এগিয়ে ছিলেন প্রায় ২,৯২৯ ভোটে। ভবানীপুর কেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে এই কেন্দ্রে ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়। চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা না হলেও, শেষের দিকের রাউন্ডগুলোতে শুভেন্দু অধিকারীর ক্রমবর্ধমান লিড ভবানীপুরের ফল কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা আরও ...

"আমাকে লাথি মেরেছে”, মারধরের অভিযোগ তুলে সরব মমতা



কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ভবানীপুর গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দুপুর তিনটা থেকে আমাদের মারধর করা হচ্ছে। আমাকেও আঘাত করা হয়েছে। নজরদারি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কোনো প্রতিনিধিকেই গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাঁদের প্রতিনিধিরা ভিতরে ঢুকতে পারবেন, কিন্তু পরে সেই আশ্বাস রক্ষা করা হয়নি। তিনি বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছেন।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্রে তিনি প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। বাইরে এসে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, লাথি মারা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এটি জয় নয়, এটি লুট। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এখানে পুনরায় ভোটগণনা হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ভবানীপুর গণনাকেন্দ্রে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ভোটগণনা বন্ধ ছিল, পরে আবার শুরু হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানেও পৌঁছেছিলেন, তবে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। দুই প্রার্থী—শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—দুজনকেই মোবাইল ফোন জমা রেখে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিজেপি বড়সড় এগিয়ে রয়েছে। দুই শতাধিক আসনে তারা এগিয়ে আছে বলে খবর। পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস একশোর নিচে নেমে আসছে বলে প্রবণতা। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ