ঝড়ের দাপটে আকাশে উড়ে গেলেন দিনমজুর! শেষমেশ ভুট্টাক্ষেতে অবতরণ

 


বেরেলি জেলায় ভয়ংকর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা শুনে হতবাক সাধারণ মানুষ। দিনমজুর ৫০ বছরের নানহে মিয়া টিনের ছাউনি-সহ ঝড়ের দমকায় কয়েক ফুট ওপরে উড়ে গিয়ে দূরের একটি ভুট্টাক্ষেতে পড়ে যান। এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে যাওয়াকে অনেকেই অলৌকিক বলছেন।

চিকিৎসক ও স্থানীয়দের মতে, নানহে মিয়ার প্রাণ বাঁচার সবচেয়ে বড় কারণ সেই ভুট্টাক্ষেত এবং জমে থাকা কাদা-জল। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেলেও, যদি তিনি পাকা রাস্তা বা শক্ত মাটিতে পড়তেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে নানহে মিয়া প্রতিদিনের মতো সেদিনও শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। আচমকাই আকাশ কালো হয়ে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে সবাই একটি টিনের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন। ঝড়ের দাপট দেখে শ্রমিকরা দড়ি দিয়ে ছাউনিটি শক্ত করে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

কিন্তু ঝড়ের গতি এতটাই প্রবল ছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই দড়ি ছিঁড়ে যায়। বেশিরভাগ শ্রমিক সরে গেলেও নানহে মিয়া ও আরও দু’জন টিনের কাঠামো আঁকড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক তখনই এক ভয়ংকর ঝাপটা এসে তিনজনকেই আকাশে তুলে দেয়।

নানহে মিয়ার কথায়, সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আর বাঁচবেন না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঝড় তাঁদের অনেক দূরে ছুড়ে ফেলে। পরে তিনি একটি ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে পড়েন, যেখানে হাঁটুসমান কাদা ও জল জমে ছিল। আর সেই কাদা-জলই তাঁর প্রাণ বাঁচায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উঁচু থেকে শক্ত মাটিতে পড়লে শরীরে প্রবল আঘাত লাগে এবং মাথা ও মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু নরম কাদা, জল বা ফসলভরা জমিতে পড়লে সেই ধাক্কা অনেকটাই কমে যায়। নানহে মিয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে।

যে জমিতে তিনি পড়েছিলেন, সেখানে ঘন ভুট্টা গাছ দাঁড়িয়ে ছিল। উঁচু ফসল ও নিচের কাদামাটির কারণে শরীরে সরাসরি তীব্র আঘাত লাগেনি। ফলে গুরুতর চোট পেলেও প্রাণঘাতী বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি।

তবে দুর্ঘটনায় তাঁর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে। হাতে লোহার রড বসাতে হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, এমন দৃশ্য তারা আগে কখনও দেখেননি। ঝড়ের মধ্যে একজন মানুষকে টিনের ছাউনি-সহ উড়ে যেতে দেখে সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার পর গ্রামের এক ব্যক্তি প্রথম তাঁকে ভুট্টাক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে কাঁধে করে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যান। ঝড়ে তাঁর জামাকাপড়ও ছিঁড়ে গিয়েছিল। পরে গ্রামের লোকজনই তাঁকে নতুন পোশাক পরিয়ে সাইকেলে করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিরহাদের ইস্তফা, অভিষেককে তলব, ঋতব্রতের উত্থান! একদিনে তৃণমূলে তিন বড় ধাক্কা

১ জুন পার, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন ফর্ম নিয়ে ধোঁয়াশা! পোর্টালে নেই নতুন আপডেট

বাংলায় ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর