অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপ শুরু, ১২ পাতার ফর্মে কী কী নথি লাগবে? জেনে নিন বিস্তারিত
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে সরকারি পোর্টাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন ধরে আবেদন গ্রহণ চলবে। অনলাইন ও অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। রাজ্যের প্রতিটি পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
এই প্রকল্পে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে যোগ্য মহিলাদের। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে সরকার ১২ পাতার বিস্তারিত ফর্ম চালু করেছে। আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। তাই আবেদন করার আগে কোন কোন তথ্য ও নথি লাগবে, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কী জানানো হয়েছে সরকারের তরফে?
সরকারের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে কড়া যাচাই করা হবে। সেই কারণে আবেদনকারীর পারিবারিক তথ্য, আয়, সম্পত্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যসহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
ফর্মে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য সংখ্যা, প্রত্যেকের পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সরকারি সুবিধা পাওয়া না পাওয়া, আয়কর প্রদান করেন কিনা— এমন নানা তথ্য দিতে হবে। এছাড়াও পরিবারের কারও সরকারি চাকরি বা পেনশন রয়েছে কিনা, তাও উল্লেখ করতে হবে।
কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই করা যাবে। বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় ফর্ম পাওয়া যাবে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালে। আবেদনকারীরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন।
অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। এছাড়াও সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদনপত্র সংগ্রহ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারী কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী, পেনশনভোগী কিংবা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হলে আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনকারীর পরিবার আয়কর দাতার আওতার বাইরে হতে হবে। অর্থাৎ যাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে?
১২ পাতার ফর্মে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্যের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফর্মে যেসব তথ্য দিতে হবে সেগুলি হল—
- পরিবারের প্রধানের নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ
- আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর
- পরিবারের সকল সদস্যের পরিচয়পত্রের তথ্য
- ভোটার কার্ড বা EPIC নম্বর
- ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য
- পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
- বার্ষিক পারিবারিক আয়
- শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশার তথ্য
- জমি বা সম্পত্তির বিবরণ
- চার চাকার গাড়ি রয়েছে কিনা
- সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া হচ্ছে কিনা
- স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত তথ্য
- শিশুদের স্কুল ও টিকাকরণের তথ্য
সরকার জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পরই আবেদন গ্রহণ করা হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিলও হতে পারে।
কোন কোন নথি লাগবে?
আবেদনপত্রের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। সেগুলি হল—
১) আবেদনকারী ও পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ডের তথ্য
২) ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ডের বিবরণ
৩) প্যান কার্ডের তথ্য (যদি থাকে)
৪) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
৫) জমি বা সম্পত্তির নথি
৬) যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য
৭) স্বাস্থ্যবিমার তথ্য
৮) শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্য
৯) শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র
১০) পারিবারিক আয়ের তথ্য
তবে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে আধার নম্বর বাধ্যতামূলক নয় বলে জানানো হয়েছে।
আবেদন করার সময় কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
ফর্ম পূরণের সময় সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখে জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর ও রেশন কার্ডের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতে যাচাইয়ের সময় এই তথ্যগুলিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকার জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন