‘শাসকই ঘাতক’, অভিষেকের উপর হামলা নিয়ে তোপ মমতার! সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোট
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, শনিবার সোনারপুরে শোকাহত পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও বিজেপি সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
শনিবার বিকেলে সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ খুলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “শাসকই ঘাতক হয়ে উঠল। লজ্জা হওয়া উচিত বিজেপির।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার পর শুধু রাজ্য রাজনীতিই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র একাধিক নেতা প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সমাজমাধ্যমে পৃথক বার্তা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি যুক্ত নয়। তৃণমূল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গত পাঁচ বছর ধরে যে অত্যাচার করেছে, তাতে বিজেপি চাইলে এখন তৃণমূলের নেতারা বাড়ি থেকেই বেরোতে পারতেন না। বিজেপি সংযম দেখিয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা এ ভাবে বেরোতে পারছেন।”
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও সমাজমাধ্যমে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, হামলার মুখে পড়ার পরও নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বক্তব্য, “নৃশংস আক্রমণের পরেও সঞ্জু কর্মকারের শোকাহত পরিবারকে পরিত্যাগ করতে চাননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের সামনে আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুখ ফিরিয়ে নেননি। বরং তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহানুভূতির রাজনীতি এবং ঘৃণার রাজনীতির মধ্যে এটাই পার্থক্য।”
তৃণমূলের বিবৃতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, “আজকের ঘটনা আবারও আপনার রাজনীতির ধরনকে উন্মোচিত করেছে, যা ভীতি প্রদর্শন, হিংসা এবং প্রতিহিংসার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।”
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে হামলার শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন বিশিষ্ট বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুভ সংকেত নয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনওই হিংসার কারণ হতে পারে না এবং বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “বাংলার তৃণমূলের এক জন বিশিষ্ট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। এমন একটি সংবেদনশীল পরিবেশে পুলিশের অনুপস্থিতি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সোনারপুরের ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। একদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলকেই দায়ী করছে। এর মধ্যেই জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ঘটনাটিকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন