‘আমাকে মারার পরিকল্পনা ছিল’, সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর বয়ান অভিষেকের
ট্রেন্ড টেলস ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন। ঘটনার পর তিনি দাবি করেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর এবং ডিম ছোড়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুরো ঘটনাটি চিত্রগ্রহণে ধরা পড়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যপাল ও উচ্চ আদালতের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির কথা জানালেও দীর্ঘ সময় কোনও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়নি।
অভিষেকের বক্তব্য, “যদি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা ঘটনার খবর দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। কেন পুলিশ দ্রুত পৌঁছাল না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমাদের কাছে ঘটনার একাধিক প্রমাণ রয়েছে। আমরা আইনগত পথে এগোব এবং প্রয়োজন হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যাব।”
হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত এলাকা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, তখন একদল বিক্ষোভকারী তাঁর কনভয়ের সামনে জড়ো হয়। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর উদ্দেশে স্লোগান দেওয়া হয় এবং উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন তাঁর দিকে ডিম, জুতো এবং বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে দেয়। ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, হামলায় তাঁর চোখ, পিঠ, বুক, হাত এবং পায়ে আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, “আমার চশমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখে আঘাত লেগেছে। নিরাপত্তার জন্য মাথায় হেলমেট না থাকলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত।”
তাঁর দাবি, ঘটনাটি আকস্মিক ছিল না, বরং পূর্বপরিকল্পিত। এলাকায় আগে থেকেই কিছু দুষ্কৃতীকে জড়ো করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় মানুষের সমর্থনের দাবিও
ঘটনার মাঝেও এলাকার বহু সাধারণ মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “যাঁরা অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, তাঁরা এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নন। বহু মানুষ আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের কথা জানিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু হিংসা কোনও সমাধান নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ কী বলছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সোনারপুর এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় কিছু স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে বচসা এবং ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বেশ কিছু দৃশ্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি তাঁর জামার কিছু অংশ ছিঁড়ে যাওয়ার ছবিও সামনে এসেছে।
আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার পিছনে যারা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে আমাদের থামানো যাবে না। মানুষের পাশে থাকার কাজ আমরা চালিয়ে যাব।”
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। একদিকে হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে চলছে বিতর্ক।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন