তাপপ্রবাহে কাঁপল বাংলা, প্রথম দফার ভোটেই ৭ জনের মৃত্যু
কলকাতা, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৯:০১ : রাজ্যে প্রথম দফার ভোট প্রায় নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসার বড় কোনও খবর নেই। তবে তার মাঝেই সামনে এল এক উদ্বেগজনক দিক, তীব্র গরমে প্রাণ হারালেন অন্তত ৭ জন ভোটার।
ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ানোর সময় কেউই হয়তো ভাবেননি, এই গরম এতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বৃহস্পতিবার বীরভূম, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরসহ মোট ৬টি জেলায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ভোট দিতে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন, আবার কেউ ভোট দিয়ে ফেরার সময় প্রাণ হারান।
সকালের শুরু থেকেই ভোটের উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ আরও চড়ে। বাঁকুড়া জেলায় দুপুরের আগেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, আর আর্দ্রতা নেমে আসে প্রায় ৩০ শতাংশে—যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই পরিস্থিতিতেই বাঁকুড়ার জয়পুরে এক বৃদ্ধ ভোটার, কাশেম চৌধুরী, ভোট দিতে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে গাড়ি চাওয়া হলেও সাহায্য মেলেনি। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই বুথের বাইরে তাঁর মৃত্যু হয়।
একইভাবে, উত্তর দিনাজপুরের গোলপোখরের দুলাল ওরাঁও, বীরভূমের সিউড়ির অসীম রায়, মালদার মালতিপুরের প্রমিদা বাগড়ি, পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের নৃপেন্দ্র দাস এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের ইসরতন বিবি ও শেখ বাবলুও তীব্র গরমে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে ছিল। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ওড়িশার উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে একদিকে সমুদ্র থেকে আর্দ্র বাতাস ঢুকছে, অন্যদিকে পশ্চিম দিক থেকে আসছে শুকনো গরম হাওয়া। এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হয়েছে চরম তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক আবহাওয়াই এমন মর্মান্তিক ঘটনার প্রধান কারণ।
সতর্কতা: এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন—অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোদে না বেরোনো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং শরীর খারাপ লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন