নির্বাচনী প্রচারে নতুন রং! সবজি বাজারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা



হাইলাইটস:

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হঠাৎ ভবানীপুরের বাজারে গিয়ে সবজি ও ফল কেনেন

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বার্তা দেন




কলকাতা, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫:০১ : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ একদিকে যেমন তীব্র, তেমনই নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিও সামনে আসছে। গত ২৬ এপ্রিলও তেমনই এক দৃশ্য দেখা গেল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রবিবার এক জনসভা থেকে ফেরার পথে হঠাৎ কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় একটি সবজি বাজারে পৌঁছে যান।





সেখানে তিনি নিজে সবজি ও ফল কেনাকাটা করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে যান। তিনি সময় সময় নিজের কেন্দ্রের বাজারে যান, তবে এইবারের সফর বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি জনসংযোগ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।




বাজারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ফলও কেনেন। সাধারণ ভঙ্গিতে তাঁকে কেনাকাটা করতে দেখে স্থানীয় মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এবং অনেকেই ছবি তোলেন। সেই ছবি দ্রুতই বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।





তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বাজার সফরের ছবি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, তিনি স্থানীয় সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রতিফলনই এই সফর। দলীয় বার্তায় আরও বলা হয়, এটি মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের প্রতীক।




একই সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে অন্যদিকে প্রচার চলছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করে বিরোধী রাজনীতি জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হুগলি ও উত্তর চব্বিশ পরগনায় জনসভা করেন এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন।





প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়েছে এবং তিনি একে “জঙ্গল রাজ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।




অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাঁর সফরের সময় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন এবং রাজ্যে সহাবস্থানের বার্তা দেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করেছে এবং মানুষের জীবনের মানোন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।




সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই নেতাদের জনসংযোগ ও প্রচারের ভিন্ন ভিন্ন ধরনও সামনে আসছে।

মন্তব্যসমূহ