হাইলাইটস:
ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে বিতর্ক
প্রার্থী ও তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ
ফলতায় প্রার্থীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা, ভিডিও ছড়াল
কলকাতা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০:০১ : উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা নিজের মন্তব্য ও ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তিনি ফলতা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে হুমকির সুরে কথা বলেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সোমবার দুপুরে ভিডিওটি সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, তিনি ফলতায় প্রার্থীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আশপাশের মানুষদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত ছিলেন।
অজয় পালের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আশপাশের সবাই যেন ভালো করে বুঝে নেয়—কেউ যদি কোনো রকম গোলমাল বা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও থেকে যদি হাঙ্গামা বা কারও উপর অত্যাচারের খবর আসে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি তিনি বলেন, পরিবারের লোকদের বলুন যেন পরে অনুতাপ করতে না হয়।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর খান জানান, তিনি কোনোভাবেই ভীত নন। তাঁর কথায়, “আমি পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জনসভা করছি। আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি এমন কেউ নই যাকে ভয় দেখানো যাবে। এসব কথাবার্তা বলে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু এতে কোনো কাজ হবে না।”
তৃণমূলের আক্রমণ
অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের অভিযোগ, তাঁকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, অথচ তাঁর অতীত নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে ‘ঠোক দাও’ মনোভাবের জন্য কুখ্যাত বলেও দাবি করা হয়েছে।
দলের আরও অভিযোগ, আগে একটি নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল, যার পর তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় তদন্তের সুপারিশও করা হয়েছিল।
এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ নষ্ট করা এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলাও দায়ের হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং পরে অভিযোগ তুললে উল্টো সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করেছেন।
সব মিলিয়ে, এই ধরনের একজন আধিকারিককে নির্বাচনকালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন