আই-প্যাক মামলায় উত্তেজনা চরমে! রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের
কলকাতা, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১২:০১ : কলকাতায় আই-প্যাক সংক্রান্ত প্রয়োগ অধিদপ্তরের তল্লাশি মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট-এ শুনানি হয়। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শীর্ষ আদালত জানায়, সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার যুক্তি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রয়োগ অধিদপ্তর তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানায়, পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে—এমন দাবি তারা করছে না।
তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানায়, তাদের বক্তব্য কেবল আইনশৃঙ্খলার লঙ্ঘন নিয়ে, একে সাংবিধানিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। এই প্রসঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, এমন যুক্তি গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে গুরুতর সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তল্লাশি অভিযানে উপস্থিত থেকে হস্তক্ষেপ করার ঘটনায় আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। আদালত জানায়, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় তদন্তে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন, তা শুধু কেন্দ্র-রাজ্যের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা যায় না—এটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলে।
এদিন প্রয়োগ অধিদপ্তরের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সওয়াল করেন। তিনি জানান, আগের দিন রাজ্য সরকার ও পুলিশ তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ করেছে।
মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সংবিধানের দুটি ধারাকে ঘিরে বিতর্ক। রাজ্য সরকারের দাবি, এই মামলা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন সংক্রান্ত নয়, তাই এটি সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরোধ সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা উচিত ছিল। তবে আদালত এই অবস্থানের উপর প্রশ্ন তোলে এবং জানায়, কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপদের মুখে ফেলতে দেওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, প্রয়োগ অধিদপ্তর অভিযোগ করেছে যে, কলকাতায় আই-প্যাকের কার্যালয়ে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থেকে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন