রেকর্ড ভোটের পর গঙ্গার তীরে প্রধানমন্ত্রী মোদী, বাংলার উন্নয়নে জোর
কলকাতা, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫:০১ : বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী গঙ্গার ঘাটে যান। শুক্রবার সকালে তিনি কলকাতায় হুগলি নদীর তীর থেকে দিনের সূচনা করেন। এই সময় তিনি নৌকাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আবারও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি সেখানে ছবি তোলারও চেষ্টা করেন।
একটি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী গঙ্গার মাহাত্ম্য নিয়ে বলেন, এই নদী বাংলার আত্মার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি নৌকায় চড়ে নদীর বুকে ভ্রমণের কিছু ছবি ভাগ করে নেন।
তিনি লেখেন, “প্রত্যেক বাঙালির কাছে গঙ্গার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বলা যায়, গঙ্গা বাংলার আত্মার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এর পবিত্র জল একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে।”
তিনি আরও লেখেন, “আজ সকালে কলকাতায় হুগলি নদীর তীরে কিছু সময় কাটিয়েছি। এটি মা গঙ্গার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি মুহূর্ত ছিল। পাশাপাশি নৌকাচালকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, যাঁদের কঠোর পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। সকালের পথচারীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। হুগলি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং বাঙালির সমৃদ্ধির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে বিদ্যাসাগর সেতু এবং হাওড়া সেতুর দৃশ্যও তুলে ধরেন এবং কিছু ছবি ভাগ করেন।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ব্যাপক ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর রাজ্যে সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, এই ভোটে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল। মহিলাদের ভোটের হার ছিল ৯২.৬৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ছিল ৯০.৯২ শতাংশ।
তবে ভোট চলাকালীন কিছু জায়গায় সহিংসতা এবং প্রার্থীদের উপর হামলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে।
বাম্পার ভোটের পর বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই পক্ষই নিজেদের জয়ের দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নদিয়া জেলায় এক সভায় এই ভোটকে পরিবর্তনের পক্ষে জনসমর্থন বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে গত কয়েক দশকের তুলনায় সহিংসতা কম হয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে বলেন, বেশি ভোট পড়ার কারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আশঙ্কা কাজ করেছে—যদি তারা ভোট না দেন, তাহলে তাদের অধিকার ও নাগরিকত্ব বিপন্ন হতে পারে।
এখন বড় প্রশ্ন একটাই—এই বিপুল ভোট কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি বর্তমান সরকারই আবার ক্ষমতায় ফিরবে?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন