হাইলাইটস:
প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘মন কি বাত’-এর ১৩৩তম পর্বে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরলেন
তরাই অঞ্চলে হাতির পাল গ্রামে ঢোকায় মানুষ-প্রাণী সংঘর্ষের আশঙ্কা বৃদ্ধি
ছত্তীসগড়ে আবার কালো হরিণের দেখা মিলছে
বিলুপ্তির পথে থাকা গডাওয়ান পাখি সংরক্ষণে গুরুত্বের কথা উল্লেখ
শিলিগুড়ির ছাত্র চন্দন মল্লিকের আঁকা ছবি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী চিঠি দিয়ে উৎসাহিত করেন
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৫:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ‘মন কি বাত’-এর ১৩৩তম পর্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশের তরাই অঞ্চলে ফসল কাটার সময় হাতির পাল গ্রামাঞ্চলের কাছাকাছি চলে আসে, ফলে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এছাড়াও তিনি জানান, ছত্তীসগড়ে আবার কালো হরিণ দেখা যাচ্ছে। একসময় মরুভূমি অঞ্চলের পরিচয় ছিল গডাওয়ান পাখি, কিন্তু এক সময় তাদের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল।
তিনি শিলিগুড়ির একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র চন্দন মল্লিকের কথা উল্লেখ করেন, যিনি নিজের হাতে আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই শিল্পকর্মকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং ওই ছাত্রকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লিখে তার উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কিছুদিন আগে তিনি একটি বার্তার মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করেছিলেন যে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক পনির প্রতিযোগিতায় ভারতের দুটি পনির প্রস্তুতকারক সংস্থা সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছে। এই সাফল্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং অনেকেই দেশের পনিরের বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, শান্তি আমাদের ভেতর থেকেই শুরু হয় এবং নিজের ওপর জয়লাভই সবচেয়ে বড় জয়। বর্তমান বিশ্বের নানা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সময়ে বুদ্ধের এই শিক্ষাগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে একটি সংস্থা বুদ্ধের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। লাদাখে জন্মগ্রহণকারী দ্রুবপোন ওৎজের রিনপোচের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ চলছে, যেখানে ধ্যান ও সহমর্মিতাকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে আইন পরিবর্তন করে বাঁশকে ‘গাছ’ শ্রেণি থেকে সরানো হয়েছিল। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে বাঁশ শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে। তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলের উন্নয়ন সবার জানা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাতীয় নথি সংরক্ষণাগার একটি বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে বিশাল তথ্যভাণ্ডার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এতে ২০ কোটিরও বেশি মূল্যবান নথি ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে গণিত অলিম্পিয়াডে নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন এবং বহু ধাপে সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি ফ্রান্সের বোর্দো শহরে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কন্যা গণিত অলিম্পিয়াডে ভারতের মেয়েরা তাদের সেরা ফলাফল করেছে, যা নিয়ে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব রাজ্যে স্বয়ং গণনার কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে এখন ঘর তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার জনগণনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ আরও সহজ করা হয়েছে, যেখানে মানুষ নিজের তথ্য নিজেই আগাম জমা দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সৌর ও বায়ু শক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্যও জরুরি। তাই সবাইকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের পরমাণু বিজ্ঞানীরা একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। তামিলনাড়ুর কলপাক্কামে দ্রুত প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু চুল্লি সফলভাবে কার্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং দেশের পরমাণু শক্তির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন