ভবানীপুর স্ট্রং রুমে মমতা, ইভিএম কারচুপির অভিযোগে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

 


হাইলাইটস:

• ভোটগণনার আগে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রং রুম ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

• স্ট্রং রুমে কারচুপির অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস

• নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বাইরে শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষের অবস্থান বিক্ষোভ

• ভবানীপুরে স্ট্রং রুমে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধার অভিযোগ

• ইভিএমে কারচুপি হলে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর



কলকাতা, ০১ মে ২০২৬, ১০:৩২:০২ : পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনার আগেই শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা স্ট্রং রুমে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। তৃণমূলের দাবি, কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাখা ব্যালট বাক্সে কারচুপি করা হচ্ছে। এই অভিযোগে দলের প্রবীণ নেতা ডা. শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ কর্মীদের নিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।


অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে যান, যেখানে তাঁর ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম মেশিন রাখা রয়েছে। বাইরে এসে তিনি জানান, প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়, পরে অনুমতি নিয়ে তিনি প্রবেশ করেন।


স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে তিনি ইভিএমে কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ভোট লুটের চেষ্টা হলে তৃণমূল লড়াই করবে এবং কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।


এদিকে সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূল জানায়, এটি বিহার, মহারাষ্ট্র বা দিল্লি নয়—এটি বাংলা। যে কোনও চক্রান্তের জবাব দেওয়া হবে। দলীয় কর্মীদের ভোট রক্ষার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।


অন্যদিকে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণই আসলে নির্বাচনের ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং তা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।


ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারী প্রার্থী হয়েছেন। মমতার স্ট্রং রুমে যাওয়া নিয়ে বিজেপি তীব্র আপত্তি জানায়। বিজেপি কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।


শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধি ও আইনজীবী সূর্যনীল দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মমতার স্ট্রং রুমে প্রবেশ অসাংবিধানিক এবং কীভাবে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই নিয়ে বিজেপি কর্মীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন।



এছাড়া ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের একটি গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবি, গাড়িতে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।



কলকাতায় কয়েক ঘণ্টার বিক্ষোভের পর শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ তাঁদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দলীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বাক্স খোলার চেষ্টা হয়েছে। যদিও তাঁরা জানান, আন্দোলন শেষ হলেও নজরদারি চলবে।



অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সব অভিযোগ খারিজ করে জানান, স্ট্রং রুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং সিল করা রয়েছে। কোনও অনধিকার প্রবেশ সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা হবে।



তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলেই গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। শুধু কলকাতা নয়, দুর্গাপুরেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেখানে স্ট্রং রুমের কাছেই তৃণমূল কর্মীরা দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন।

মন্তব্যসমূহ