বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর জায়গায় জায়গায় উত্তেজনা ও ভাঙচুর! কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কমিশনের
পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যজুড়ে উৎসব ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে এই বিজয় উদ্যাপনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। কলকাতাতেও কিছু দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির উপর নির্বাচন কমিশন কড়া নজর রাখছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সমস্ত জেলা শাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সহিংসতা ও ভাঙচুরে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা টহল জোরদার করতে হবে।
এর আগে ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিজয় উদ্যাপনের নামে ভাঙচুর ও অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতার ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট এলাকায় একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই ভিড়ের মধ্যে এই ভাঙচুর চালানো হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, কলকাতার সেন্ট্রাল এলাকায় নিউ মার্কেটের কাছে পুলিশের অনুমতিতেই বিজয় উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ওই মাংসের দোকান ভাঙা হয়েছে, যেখানে পাশেই কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শুধু কলকাতাই নয়, উত্তর চব্বিশ পরগনার শ্যামনগর এলাকাতেও বুলডোজার দিয়ে একটি কাঠামো ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকদের আপত্তি সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ওই নির্মাণ ভাঙা হয়।
এদিকে নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে দুই রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিউ টাউন এলাকায় বিজয় মিছিল চলাকালীন এক রাজনৈতিক দলের কর্মী মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান। অন্যদিকে বীরভূমের নানুর এলাকায় সংঘর্ষের সময় আরেক রাজনৈতিক কর্মী ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিউ টাউন এলাকায় বিজয় মিছিল চলাকালীন দুই পক্ষের বচসার পর মারধরের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। নানুর এলাকায়ও পৃথক সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন