"ইরানের নাম-নিশান মুছে দিবো”, হরমুজে জাহাজ নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলোর ওপর হামলা করে, তাহলে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে যখন ইরান কিছু জাহাজে হামলার অভিযোগের মুখে রয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশে শুরু হওয়া “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামের অভিযানের আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চালানো হচ্ছিল।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা করেছে, যার মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যবাহী জাহাজও ছিল, যেটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান প্রজেক্ট ফ্রিডমের আওতায় জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছু অন্য দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কার্গো জাহাজও রয়েছে। তিনি বলেন, এখন দক্ষিণ কোরিয়ারও এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার সময় এসেছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সাতটি ছোট নৌযানকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে হরমুজ প্রণালীতে এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের সামরিক শক্তি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এবং অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। প্রয়োজনে এসব শক্তি ব্যবহার করা হবে।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সহায়তা ও নির্দেশনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তাদের দুইটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। সেখানে থাকা গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। তারা জানিয়েছে, প্রজেক্ট ফ্রিডমের আওতায় এসব জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে।
এই ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়। ফুজাইরাহ এলাকার একটি পেট্রোলিয়াম শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলার কারণে আগুন লাগে, যেখানে তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
এর আগেও ইরান হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ-পূর্বে একটি বন্দরের কাছে একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা হয়নি।
সবশেষে, ট্রাম্প রোববার প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের এই অভিযান ঘোষণা করেন। এই অভিযানে গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং প্রায় পনেরো হাজার সেনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যদিও সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন