১৫ বছরের ‘মহা জঙ্গলরাজ’-এর ফল! পিএ খুনে ফুঁসছেন শুভেন্দু, কড়া বার্তা বিজেপির
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনাকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে হামলার আগে কয়েকদিন ধরে এলাকায় নজরদারি চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকে দেয় মোটরবাইকে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি চালিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিতে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ রথ। দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও হাতে পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গভীর শোকাহত। এই ঘটনার নিন্দা করার ভাষা নেই। দিল্লি থেকেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছে।”
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথ হত্যার পাশাপাশি গত কয়েকদিনে নির্বাচনের পরবর্তী অশান্তিতে নিহত তৃণমূল কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাও সমানভাবে উদ্বেগজনক। দলটি আদালতের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক হিংসার কোনও স্থান গণতন্ত্রে নেই এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি হওয়া উচিত।
জানা গিয়েছে, হামলার সময় চন্দ্রনাথ রথ গাড়ির সামনের আসনে বসে ছিলেন। গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন